kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

নন্দীগ্রামে মিলছে না প্রয়োজনীয় ওষুধ, গ্রামেও ছড়াচ্ছে করোনা

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২৪ জুন, ২০২১ ০৯:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নন্দীগ্রামে মিলছে না প্রয়োজনীয় ওষুধ, গ্রামেও ছড়াচ্ছে করোনা

বগুড়ায় বেড়েই চলেছে করোনার সংক্রমণ। তবে আগে শুধু শহরে এ সংক্রমণের হার বেশি থাকলেও বর্তমানে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ছে। নন্দীগ্রাম উপজেলার গ্রাম-গঞ্জেও সংক্রমণের হার বাড়ছে প্রতিদিনই। গ্রামের ফার্মেসিগুলোতে মিলছে না প্রয়োজনীয় ওষুধ। এতে জনমনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। এর পরও সরকারি বিধি-নিষেধ মানছেন না তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে নন্দীগ্রামে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সসহ সাতজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় সংক্রমণের শুরু থেকে মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৯৩ জনের। করোনায় আক্রান্ত বেশির ভাগেরই বাড়ি গ্রামে। এ উপজেলায় এ পর্যন্ত ছয়জন করোনায় মারা গেছেন।

নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় ক্লিনিকগুলোতে সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত রোগী আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের মধ্যে পৌর শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষই বেশি।

এ ছাড়া সামাজিক বিড়ম্বনার ভয়ে উপসর্গ থাকার পরও অনেকে করোনা পরীক্ষা করাতে চান না। গ্রামের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও মাস্ক ব্যবহারেও উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ প্রবণতাকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি লোকজনকে সচেতন করতে ব্যাপকভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে ফার্মেসিতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেক্সিমকো গ্রুপের নাপা, অ্যাজিথ্রোমাইসিন, প্যারাসিটামল ওষুধের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্যারাসিটামল, অ্যাজিথ্রোমাইসিন ওষুধের বিক্রি বেড়েছে। ওষুধ টাকা দিয়েও না পেয়ে ভোগান্তি আর বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে এলাকার মানুষ।

উপজেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, বেক্সিমকো কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা ওষুধ না দেওয়ার কারণে নাপা, প্যারাসিটামল ফার্মেসিতে নেই। তবে অন্য কম্পানির ওষুধ রয়েছে। এ ছাড়া কোনো ফার্মেসিতে কেউ ওষুধ বেশি দামে বিক্রি করছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে বেক্সিমকো কম্পানির নন্দীগ্রামের প্রতিনিধি সনজিত কুমার বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় মার্কেটে নাপা গ্রুপের ওষুধসংকট রয়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে সাপ্লাই স্বাভাবিক হবে বলে আশা করেন তিনি।

জানতে চাইলে নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তোফাজ্জল হোসেন মণ্ডল বলেন, বেক্সিমকো কম্পানির নাপাজাতীয় ওষুধ ফার্মেসিতে পাওয়া যাচ্ছে না বলে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বারবার উপদেশ দেওয়ার পরও জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত লোকজন করোনা পরীক্ষায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তারা পরীক্ষা না করে বিভিন্ন ফার্মেসিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ফলে করোনার সংক্রমণ নন্দীগ্রাম উপজেলার গ্রাম-গঞ্জেও ছড়িয়েছে।



সাতদিনের সেরা