kalerkantho

শুক্রবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৮। ৬ আগস্ট ২০২১। ২৬ জিলহজ ১৪৪২

হুজরাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়

১৭ লাখ টাকায় দুই পদে নিয়োগ!

হাফিজুর রহমান চয়ন, হাওরাঞ্চল   

২৩ জুন, ২০২১ ১৯:৫৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৭ লাখ টাকায় দুই পদে নিয়োগ!

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার হুজরাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের দুটি শূন্যপদে প্রায় ১৭ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয়ের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ও নিরাপত্তা প্রহরী পদ দুটিতে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম অঞ্জন ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি মুক্তা আক্তার ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছেন বলে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য লিটন মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই অভিযোগ করেন। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হতে থাকে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হুজরাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ও নিরাপত্তা প্রহরী পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে পাঁচজন এবং নিরাপত্তা প্রহরী পদে ১১ জন প্রার্থী আবেদন করেন। উভয় পদে আবেদনকারীদের গত ২ জুন সকাল ১০টায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে একই দিনে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান করা হয়। এতে সেদিন ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে পাঁচজন আবেদনকারীর মধ্যে তিনজন এবং নিরাপত্তা প্রহরী পদে ১১ জনের মধ্যে ৯ জন প্রার্থী বিদ্যালয়ে এসে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

নিয়োগ বোর্ডের দায়িত্বে ছিলেন ডিজির প্রতিনিধি হিসেবে জেলার মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোতাহার হোসেন, উপজেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহা-আলম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোর্শেদা চিশতি মুক্তা।

কিন্তু ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে লিপা আক্তার নামে একজন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় প্রথম হলেও মৌখিক পরীক্ষায় কৌশলে তাকে ফেল দেখানো হয়। এ পদে তাকে নিয়োগ না দিয়ে নাজমুল হক নামে পরীক্ষায় অপর অংশগ্রহণকারী ও বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের শ্যালকের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে অবৈধভাবে তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এছাড়া নিরাপত্তা প্রহরী পদেও জুবায়ের আহম্মেদ নামে এক প্রার্থীকে নিয়োগ না দিয়ে রফিকুল ইসলাম নামে অন্য এক প্রার্থীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়ে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ জুবায়ের আহম্মেদের।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. লিটন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয়ের দুটি শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য নিয়মবহির্ভূতভাবে পরীক্ষার ফলাফল গোপন রাখাসহ অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করার বিষয়টি জানতে পেরে কোনো রেজ্যুলেশনে আমি স্বাক্ষর করিনি। এসব অনিয়মের তদন্ত করে সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুটি পদে পুনর্নিয়োগের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম অঞ্জন বলেন, স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পীর নুরুজ্জামান চিশতির স্বপ্ন ছিল নিয়োগ স্বচ্ছতার সাথে তিনি নিজেই নিয়োগ দিয়ে যাবেন। কিন্তু তিনি মৃত্যুবরণ করেন আগেই। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমরা স্বচ্ছতার সাথে দুটি পদে নিয়োগ দিয়েছি। যারা অনিয়মের অভিযোগ তুলছেন তাদের প্রার্থীরা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোর্শেদা চিশতি মুক্তা বলেন, আমার বাবার প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে আমি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। এখানে অনিয়মের কোনো ধরনের সুযোগ নেই। বিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে যে ধরনের অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে এ দুটি পদে নিয়োগপ্রাপ্ত দুজনের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়টি রেজ্যুলেশনে উল্লেখ না করা হলেও কমিটির সবাই অবগত আছেন।

বারহাট্টা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় আমিসহ ডিজির প্রতিনিধি হিসেবে মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। প্রার্থীদের পরীক্ষা স্বচ্ছতার সাথেই নেওয়া হয়েছে। তবে নিয়োগের বিষয়ে স্কুল কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। নিয়োগ কমিটির সভাপতি হলেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যসচিব হলেন প্রধান শিক্ষক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোর্শেদ বলেন, হুজরাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে দুটি শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব।



সাতদিনের সেরা