kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

এক দশকেও কমিটিবিহীন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৩ জুন, ২০২১ ১৮:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক দশকেও কমিটিবিহীন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক দশক পূর্ণ হলেও কমিটির মুখ দেখেনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক সাংগঠনিক ইউনিট হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া সত্ত্বেও কমিটি না থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে।

জানা যায়, ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসসহ বিভিন্ন দলীয় প্রোগ্রামে অন্যান্য সাংগঠনিক ইউনিটের মতোই কার্যক্রম পরিচালনা করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ, ভর্তি পরীক্ষার সময় ভর্তিচ্ছুদের সহায়তার জন্য জয় বাংলা বাইক সার্ভিস, জয় বাংলা তথ্য ও সহায়ক সেল গঠন, ভর্তি কার্যক্রমে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা, করোনায় মাস্ক, স্যানিটাইজার বিতরণসহ বিভিন্ন ধরনের শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের অংশগ্রহণ রয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অপেক্ষাকৃত নিষ্ক্রিয় বলে পরিচিত অনেক সংগঠনের কমিটি থাকলেও এত সক্রিয় থাকার পরেও ছাত্রলীগের কমিটি কেন নেই এমন প্রশ্ন উঠেছে।

এর আগে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মিসভা হলেও কমিটির ব্যাপারে কোনো সুরাহা হয়নি। এর ফলে কমিটির আশায় দিনগুনে কেউ কেউ রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন, কেউ বা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সক্রিয় অনেকেই হতাশা নিয়ে প্রবেশ করেছেন কর্মজীবনে। তবে এত হতাশার ভিড়ে এখনো কেউ কেউ প্রত্যাশা রাখছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা অমিত হাসান রক্তিম কালের কণ্ঠকে বলেন, কমিটি না থাকার কারণে ববি ছাত্রলীগ সঠিক নেতৃত্ব পাচ্ছে না, এভাবে চলতে থাকলে ববি ছাত্রলীগ একসময় নেতৃত্বশূন্য হয়ে যাবে। কমিটি না থাকায় স্থানীয় রাজনীতির প্রভাব থেকেই যাচ্ছে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক জটিলতা আমাদের কমিটি না হওয়ার অন্যতম কারণ।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ রুমান ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ রাজনীতি করছে। দলীয় প্রোগ্রাম ছাড়াও ববি ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীবান্ধব অনেক কাজ করেছে। কমিটি না থাকা সত্ত্বেও ববি ছাত্রলীগ যে কষ্ট করেছে, অনেক ইউনিট আছে যারা কমিটি থাকার পরও করতে হয়নি।

কমিটি না থাকা প্রসঙ্গে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, শুধু প্রাণের সংগঠনকে ভালোবেসে তার সাথে লেগে থাকাটা কতটা ত্যাগের আর কষ্টের শুধু যারা রাজপথে থেকে ছাত্রলীগ করেন তারাই বুঝবেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সহসভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনার কারণে ক্যাম্পাস অফ আছে। নেত্রীর নির্দেশ হচ্ছে ক্যাম্পাস না খোলা পর্যন্ত যাতে কমিটি না দেওয়া হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য জায়গায় সম্মেলন হলেও কমিটি দেওয়া হয়নি কারণ, ক্যাম্পাস না খুললে কমিটি দিয়ে লাভ কি! বন্ধ ক্যাম্পাসে তো রাজনীতির চর্চা হবে না।

তিনি আরো বলেন, কমিটিতে যাদেরকে রাখা হবে ক্যাম্পাসে তাদের গ্রহণযোগ্যতা কেমন সেই বিষয়টাও দেখতে হবে। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা তাদেরকে পছন্দ করে কিনা এইসব বিষয় মাথায় রেখে কমিটির ব্যাপারে চিন্তা করা হবে। ক্যাম্পাস খুললে পর্যায়ক্রমে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি দেব।



সাতদিনের সেরা