kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ, দুই পা হারানো মোজাম্মেলের পাশে দাঁড়ালেন কর্মকর্তা

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

২৩ জুন, ২০২১ ১২:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ, দুই পা হারানো মোজাম্মেলের পাশে দাঁড়ালেন কর্মকর্তা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক

অবশেষে দুই পা হারানো মোজাম্মেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তার দেওয়া অর্থে মোজাম্মেলের দোকানের জন্য ১০ হাজার টাকার মালামাল এবং নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বিনাইল ইউনিয়নের কুন্দন বাজারে মোজাম্মেলের জীর্ণ দোকানে হাজির হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মোজাম্মেল ও তার স্ত্রীর হাতে মালপত্র এবং নগদ অর্থ প্রদান করেন তিনি।

এর আগে মোজাম্মেলকে নিয়ে গত ৮ জুন কালের কণ্ঠ পত্রিকায় 'দুই পা হারিয়ে কোমরে বস্তা বেঁধে লড়ে যাচ্ছেন মোজাম্মেল' শিরোনামের একটি প্রতিবেদন ও ভিডিও প্রকাশ হয়। বিষয়টি প্রসাশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নজরে আসে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে খবর নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মোজাম্মেলকে সহযোগিতা করার জন্য ২০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন।

জানতে চাইলে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, কালের কণ্ঠ পত্রিকার মাধ্যমে দু'পা হারা মোজাম্মেলের অসহায়ে লড়ে যাওয়ার খবরটি আমার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নজরে আসে। মোজাম্মেলের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ওনাকে জানানোর পর তিনি মোজাম্মেলকে সহযোগিতা করার জন্য ২০ হাজার টাকা দেনে। আমি গিয়ে ১০ হাজার টাকার মালামাল এবং নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদান করে আসি।

তিনি বলেন, আসলেই মোজাম্মেল একজন অসহায় মানুষ। তার পরেও তিনি অন্য পেশায় না জড়িয়ে নিজে কষ্ট করে উপার্জন করে যাচ্ছেন। এটাই অনেক মানুষের অনুপ্রেরণা হতে পারে। আমরা উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে একটি দোকানঘর করে দেওয়ার চিন্তা করেছি।

জানতে চাইলে মোজাম্মেলের স্ত্রী মোছা আতিয়া বিবি জানান, সেই উপহার পেয়ে আনন্দে কেঁদেছেন তিনি। এখনো গরীব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মানুষ আছে। যিনি আজ আমাদের সহযোগিতা করেছেন তাকে দেখেননি তিনি। আল্লাহ যেন তাকে দীর্ঘজীবী করেন সেই দোয়া করছেন মোজাম্মেলের স্ত্রী। 

তিনি বলেন, স্বামীর চিকিৎসা করাতে জমিসহ সব শেষ হয়েছে। এই সময় ওনার এই সহযোগিতা আমাদের জন্য অনেক উপকারে আসবে।

২০০৩ সালে ডান পায়ের আঙ্গুলে হাতুড়ির আঘাতে সেখানে তৈরি হয় একটি ছোট্ট একটি ঘা। স্থানীয় চিকিৎসকের চিকিৎসা শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করান মোজাম্মেল। সেখানে প্রথম অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডান পায়ে গোড়ালি পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয় তাকে। এর দু' বছরের মাথায় বাম পায়ে ঘা হয়। রংপুর মেডিকেলের স্বদেশ ক্লিনিকের ডাক্তার তালুকদার হোসেন জানান, তার বারজার রোগ হয়েছে। এই রোগে দেহে পচন ধরে। দুই বছরের মধ্যে বাম পা কাটতে হয়। একটু একটু করে পা কাটতে কাটতে এখন দু-পা কোমর সামান্য নিচ পর্যন্ত কাটতে হয়েছে। দুই পায়ে মোট ৬ বার কাটা হয়েছে। শেষ বার তার গলায় অপারেশন করতে হয়। সেই অপারেশনে পা হারার সাথে সাথে শ্রবণশক্তিও হারিয়ে ফেলেন তিনি। দু'পায়ে চিকিৎসা শেষে তার জমিসহ দোকান শেষ হয়ে গেছে। তবে ১০ বছর আগে দু'পা আর শ্রবণশক্তি হারিয়েও থেমে নেই মোজাম্মেল। বাড়ির পাশে স্থানীয় কুন্দন বাজারে একটি জীর্ণমাটির ঘর ভাড়া করে কোমরে বস্তাবেঁধে জীবনচাকা ঘোরানোর জন্য সাইকেল ও ভ্যান মেরামতের কাজ করতেন তিনি।



সাতদিনের সেরা