kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব

থানায় ‘ব্যর্থ’ এমপি অভিযোগ দিলেন সাইবার ট্রাইব্যুনালে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২৩ জুন, ২০২১ ০৭:২৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



থানায় ‘ব্যর্থ’ এমপি অভিযোগ দিলেন সাইবার ট্রাইব্যুনালে

উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি। ফাইল ছবি

তাণ্ডবের ঘটনায় হেফাজত ইসলামের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়ে সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করাতে শেষ পর্যন্ত ‘ব্যর্থ’ হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। এ অবস্থায় তিনি আদালতের শরনাপন্ন হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ জুন) তিনি চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালে হেফাজত ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো এক থেকে দেড়শ’ জনকে আসামি করে অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে গত ১ মে মোকতাদির চৌধুরী এমপি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করলে ২৪ মে পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়ে অন্যথায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়ে দেন সংসদ সদস্য।

অবশেষে আদালতেই অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। অভিযোগে ফেসবুকে তাণ্ডবের উস্কানি বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য তুলে দেয়া হয়। এর মধ্যে ‘কওমী মিডিয়া’ নামে ফেসবুক আইডি থেকে মাঠে থাকার জন্য ১০টি নির্দেশনা দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এছাড়া মাথা কেটে ফেলার হুঙ্কার দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়।

অভিযুক্তরা হলেন, হেফাজত ইসলামের জেলা সভাপতি মুফতি মোবরাক উল্লাহ, সাধারন সম্পাদক মাওলানা সাজিদুর রহমান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আশরাফুল হাসান তপু, জামিয়া ইসলামিয়া ইফনুছিয়া মাদ্রাসার মোদাররেছ বোরহান উদ্দিন কাসেমী, বোরহান উদ্দিন কাসেমী, মাওলানা আলী আজম, মাওলানা এরশাদুল্লাহ, মাওলানা জুনায়েদ কাসেমী, মাওলানা নোমান আল হাবীবী, মমিনুল হাসান তাজ, সোলেমান মোল্লা, মাওলানা এনামুল হক, মাওলানা আব্দুল হাকিম, মাওলানা মঞ্জুরুল হক, খালেদ মোশারফ। এছাড়া অজ্ঞাত আরো এক থেকে দেড়শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য তাঁর দেয়া অভিযোগ উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশ কওমী মিডিয়া’ নামে আইডি থেকে তান্ডবের বিষয়ে ১০ ধরণের নির্দেশনা দেয়া হয়। এর মধ্যে ছিলো, ‘লুঙ্গি পরে কেউ মাঠে নামব না ট্রাউজার পরব,’ ‘দুই ফিতার জুতা না পরে বোর্ড বা এমন জুতা পরব যাতে পা শক্ত হয়ে আটকে থাকে,’ ‘হেলমেটে ব্যবস্থা করব যাদের সম্ভব হয়,’ ‘জুব্বা পরবো না (দৌড়াতে অসুবিধা হয়),’ ‘হাতে অবশ্যই লাঠি বা রড বা হকিষ্টিক বা গরু জবাই করার ছুরি রাখবো,’ ‘ছোট একটা কাধ ব্যাগে এক বোতল পানি (টিয়ারসেল ছাড়লে চোখে মুখে দেওয়ার জন্য) আগুন জালানোর জন্য গ্যাসম্যাচ রাখবেন। টিয়ারসেল ছাড়লে আগুল ধরালে নাক, মুখ কম জ্বালাপোড়া করবে,’ ‘পিছে হটবো না,’ ‘আমাদের মধ্যে যাতে কোন কুত্তালীগ ছদ্মবেশে না ঢুকতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখবো’, ‘মাস্ক বা রুমাল দিয়ে নাক মুখ ভাল করে ঢেকে রাখব,’ ‘বুক ভরা সাহস রাখব। হীনমন্যতায় ভুগবো না। ইনশাআল্লাহ’।

এছাড়া ‘ব্লাড ফর ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ নামক ফেসবুক আইডি থেকে প্রচার করায় যে, ‘বাংলাদেশের সব জায়গার রক্ত যোদ্ধারা প্রস্তুত থাকুন, যেন আন্দোলনে আহত কোন ভাই রক্তের অভাবে মারা না যায়।’ হৃদয় মাঝি নামক আইডি থেকে প্রচার করা হয়, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০০ ট্রাক বিজিবি পাঠানো হয়েছে। আজ রাতে গণহত্যা।’

সংসদ সদস্য আরো অভিযোগ করেন, ২৭ মার্চ সন্ধ্যা ছয়টায় মুসলিম জনসাধারনের ধর্মীয় অনুভূতিতে উস্কানি দিয়ে জনসাধারন, যুবলীগ, ছাত্রলীগ তথা সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করিবার উদ্দেশ্যে হেফাজত সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের নির্দেশে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসার’ মাইকে বানোয়াটি ও মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়। এ সময় বলা হয়, ‘হাইয়াল আল জিহাদ, হাইয়াল আল জিহাদ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ মাদ্রাসায় আক্রমন করেছে। তৌহিদী জনতা এখনই রক্ত দেয়ার সময় হয়েছে। আপনারা মাদ্রাসাকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসুন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ মূরতাদ কাফের হয়ে গেছে। এদেরকে হত্যা করা ওয়াজিবু কর্তল।’

এছাড়া সংবাদ সম্মেলন করে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধেও মিথ্যাচার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এজাহারটি প্রাথমিক তথ্য বিবরণী হিসাবে রেকর্ড না করায় বাদী বিলম্বে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দিয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ আগমনের বিরোধীতা করে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ হেফাজত ইসলামের কর্মসূচি থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। এ সময় শতাধিক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় নিহত হন অন্তত ১৩ জন।



সাতদিনের সেরা