kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

হঠাৎ লকডাউন ঘোষণায় চরম দুর্ভোগে গণপরিবহন যাত্রীরা

* নারায়ণগঞ্জ থেকে অনেক চাকরিজীবী পায়ে হেঁটে ঢাকায় অফিস করেছেন
* সিএনজি ভাড়া এক লাফে চার গুণ বেড়েছে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

২২ জুন, ২০২১ ২৩:৫৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হঠাৎ লকডাউন ঘোষণায় চরম দুর্ভোগে গণপরিবহন যাত্রীরা

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ ও রাজধানী ঢাকাকে সুরক্ষিত রাখতে আশপাশের ৭ জেলায় লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার (২২ জুন) সকাল থেকেই রাজধানীর পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জে লকডাউন শুরু হয়েছে। তবে হঠাৎ লকডাউন ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন অনেকেই। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় চাকরির উদ্দেশ্যে আসা লোকজন।

পরিবহন না পেয়ে কেউ পায়ে হেঁটে আবার কেউ চার গুণ ভাড়া দিয়ে সিএনজিতে যাতায়াত করছেন। একদিকে পরিবহন নেই অন্যদিক প্রবল বর্ষণের কারণে নাকাল দশা হয়েছে মানুষের। গার্মেন্টসের শ্রমিকরা পড়েছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে।

বেশি বিপাকে পড়েছে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাতায়াতকারী দূরপাল্লার বাসে এসে নারায়ণগঞ্জ সীমানায় নামার পর কেউ আটকা পড়েছে মেঘনা গজারিয়া এলাকায় কেউ ভুলতা গাউছিয়া এলাকায়। তবে সাইনবোর্ড পর্যন্ত আসা প্রায় ৫ শাতাধিক বাসকে  ফেরত পাঠিয়েছে প্রশাসন।

জানা গেছে, কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের কয়েকটি ম্যাজিস্ট্রেটি টিম মাঠে কাজ করছে। তার মধ্যে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় সকাল ৬টা থেকে অবস্থান নিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) গোলাম রেজা মাসুম প্রধান।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় লকডাউন কঠোরভাবে প্রতিপালনের জন্য সাইনবোর্ড এলাকায় জেলার অভ্যন্তরে প্রবেশ ও বের হওয়ায় মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জেলার অভ্যন্তরে কোনো পরিবহন আমরা ঢুকতে দিচ্ছি না। এ পর্যন্ত কয়েক শ যানবাহন ঘুরিয়ে দিয়েছি। তবে  জরুরি পরিসেবার আওতাভুক্ত কিছু পরিবহন প্রবেশ ও বের হতে দেওয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও মহাসড়কে সকাল থেকে চলছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান, রিকশাসহ প্রাইভেটকার। তবে নগরীর প্রায় সব মার্কেট ও বিপনী বিতান ছিল বন্ধ। এদিকে বিধি নিষেধ উপেক্ষা করেই গত অর্ধ মাস ধরে পানিবন্দি সিটি কর্পোরেশনের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা মানববন্ধন করেছেন। শুধু ওই ওয়ার্ডই নয়, ডিএনডির পুরো এলাকাই এখন অতি বৃষ্টির কারণে পানির তলে ডুবে আছে। এসব পানিবন্দি মানুষ বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতিকে মরার ওপর খাড়া ঘা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

সাইনবোর্ড এলাকায় মতিঝিল একটি বেসরকারি কম্পানির চাকরিজীবী আতিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, হঠাৎ লকডাউন ঘোষণার কারণে নারায়ণগঞ্জে বসবাসকারী ঢাকায় যারা চাকরি করেন তাদের অনেকের দুর্ভোগ বেড়েছে। একদিকে বৃষ্টি অন্যদিকে পরিবহন বন্ধ ফলে অনেকে আমার মতো পায়ে হেঁটে রওয়ানা দিয়েছে কর্মস্থলে।

নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, এবারের লকডাউন অন্যান্য সময়ের মতো না। অন্যান্য সময় লকডাউন দেওয়া হয়েছে জেলায় যখন সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে সেটাকে কমানোর জন্য। এবারের লকডাউন হচ্ছে আমরা ভালো আছি বাইরে থেকে যেন আমাদের জেলায় ছড়িয়ে পড়ে বেড়ে না যায় সে জন্য।

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম জানান, বিধিনিষেধের পুরোটা সময় জেলায় ১৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি জেলায় মোট ৩০টি পয়েন্টে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ সদস্যরা জেলা প্রশাসকের ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে থাকার পাশাপাশি জেলায় গণপরিবহন কমাতে বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করবে। কেউ যদি আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, করোনাভাইরাসের ডেলটা ভেরিয়েন্টই তো দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা অতিক্রম করে ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাতেও ছড়িয়েছে। এটিকে প্রতিরোধ করার জন্য এবং নারায়ণগঞ্জের প্রায় ৭০ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করে ২২ জুন ভোর ৬টা থেকে ৩০ জুন মধ্য রাত পর্যন্ত সর্বাত্মক কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এখন আমরা মনে করি একটু স্থিতিশীল অবস্থায় আছি। এবারের লকডাউন নারায়ণগঞ্জকে রক্ষা করার জন্য। আগের বার আমরা অন্যদের জন্য হুমকি ছিলাম। এবার কিন্তু অন্যরা আমাদের জন্য হুমকি। আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীকে অনুরোধ করব যে ৭০ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা করার জন্য আমরা সবাইই যেন সরকারের এই লকডাউনের সিদ্ধান্তকে যথাযথভাবে মেনে চলি।



সাতদিনের সেরা