kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে শার্শার গ্রামেগঞ্জে

বেনাপোল প্রতিনিধি   

২১ জুন, ২০২১ ১৮:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে শার্শার গ্রামেগঞ্জে

যশোর সীমান্তের শার্শা উপজেলার গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। সংক্রমণ ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিরা শহর অঞ্চলের কঠোর অবস্থানে থাকলেও গ্রাম অঞ্চলের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে, সোমবার (২১ জুন) পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলা থেকে পাঠানো ৮৩টি নমুনা পরীক্ষায় ৪৩ জনের করোনাভাইরাস পজিটিভ এসেছে। এনিয়ে এখন পর্যন্ত এ উপজেলায় ৬৯০ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। বেনাপোলে রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ আলী।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনম সেন্টারে গত এক সপ্তাহের আরটি-পিসিআর পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যাদের শরীরে এসময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, তাদের মধ্যে বেনাপোলসহ শার্শায় প্রায় অর্ধশত গ্রামের বাসিন্দা রয়েছেন। 

মহামারির প্রথম ধাপে কেবল বেনাপোল ও নাভারন এলাকায় কভিড রোগী পাওয়া গেলেও দ্বিতীয় ধাপে তা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। যশোর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে শার্শা উপজেলার তিনজন মারা গেছেন। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের।

প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে অনেকেরই ৮ থেকে ১০ দিন সর্দি-কাশি-জ্বর-গলাব্যথার মতো উপসর্গ থাকলেও তারা কভিড পরীক্ষা করাতে অনীহা দেখাচ্ছেন। ফলে শনাক্তের প্রকৃত সংখ্যাও জানা যাচ্ছে না। করোনা ঠেকাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে ১২ দফা কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরদিন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের দেওয়া আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে কড়াকড়ি বাড়ানোর কথা বলা হয়।

শার্শার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা জানিয়েছেন, জেলা কভিড প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্তে ১৬ জুন থেকে সাত দিনের জন্য বেনাপোল বাজার ও শার্শা সদর ইউনিয়নকে উচ্চঝুঁকির এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

তবে বেনাপোল ও নাভারনে দোকানপাট, শপিং মল, বিপণিবিতাণ বন্ধ রাখার কথা থাকলেও সরেজমিনে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বাগআঁচড়া এলাকায় বিধি-নিষেধ মানছে না সাধারণ মানুষ। পাশের উপজেলা সাতক্ষীরার কলারোয়ায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেখানকার লোকজন কাজকর্ম করতে আসছেন বাগআঁচড়া বাজারে। গ্রামের বাজারগুলোতে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখতে দেখা গেছে।

বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কবির বকুল বলেন, করোনা সংক্রমণের অন্যতম হটস্পট এখন বাগআঁচড়া। আমরা আতঙ্কিত। বাগআঁচড়া সাতমাইলে রয়েছে পশুহাট ও বাগআঁচড়া বাগুড়িতে বসে আমের হাট। গরু ও আম কেনাবেচার জন্য এ দুটি হাটে সারা দেশের মানুষের সমাগম ঘটে। এখানে শত চেষ্টা করেও শারীরিক দূরত্ব কিংবা মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব না।

বাগআঁচড়ার স্থানীয় সাংবাদিক আরিফুজ্জামান জানান, সাতক্ষীরা শহরে লকডাউন থাকায় এখান থেকে দূরপাল্লার বাসসহ আন্তজেলা বাস ছাড়ছে। সাতক্ষীরার মানুষ গ্রামের ভেতরের রাস্তা দিয়ে বাগআঁচড়ায় যাতায়াত করছে। বাগআঁচড়ায় এরই মধ্যে ১৬ জন কভিড আক্রান্ত হয়েছেন। পরীক্ষা হলে এ সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে।



সাতদিনের সেরা