kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

চাঁদপুর নতুন ঠিকানা পেয়ে আনন্দ

আল্লাহ্ শেখের বেটিরে বাঁচাইয়া রাখুক

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

২০ জুন, ২০২১ ২৩:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আল্লাহ্ শেখের বেটিরে বাঁচাইয়া রাখুক

নতুন বসতঘরে ঠাঁই হবে। এমন আনন্দে এবার ওদের মুখে সত্যি হাসির ঝিলিক। কারো আবার চোখ গড়িয়ে নোনা জল। কারণ, মেঘনায় জায়গা জমি, বসতঘর হারিয়ে নিঃস্ব ছিলেন অনেকদিন। বাপ-দাদার সেই স্মৃতি যখন হারিয়ে যায়। তখন নদীসিকস্তি এই মানুষগুলো এদিক সেদিক ঘুরে এক প্রকার মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। 

শেষ পর্যন্ত স্থায়ী আশ্রয় খুঁজে পেয়ে কান্নার সঙ্গে হাসিও ওদের চোখে-মুখে। সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বৃদ্ধ দুলাল গাজী (৬০) অনেকটা কান্না জুড়ে দিয়ে বলেন, বাবাগো জীবনে চিন্তাও করি নাই। শেখ হাসিনা আর দীপু আপার কারণে জায়গার লগে থাওনের ঘরও পামু। আল্লাহ্, হেগোরে বাঁচাইয়া রাখুক।

গৃহবধূ খুকি বেগম (৪৫) বলেন, স্বামী আর দুই সন্তান লইয়া মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছি। কেউ ঠিকমতো আশ্রয় দেওনের কথাও কয় নাই। তবে এখন মনে ওয় স্বপ্ন দেখছি। ঘর পাইছি লগে জায়গাও পাইছি। আল্লাহ্ শেখের বেটিরে বাঁচাইয়া রাখুক।  
চাঁদপুরে প্রথম পর্যায়ের পর আজ বরিবার দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ১০৯ জন গৃহহীন পরিবার নতুন ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ এসব পরিবারের হাতে নতুন ঘরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে দেন। এই নিয়ে চাঁদপুরে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার শ গৃহহীন পরিবার নতুন ঠিকানা খুঁজে পেল।

চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়েজিত এই অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দাউদ হোসেন চৌধুরী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হেলালউদ্দিন চৌধুরী, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, ভাইস চেয়ারম্যান আইউব আলী বেপারী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আবিদা সুলতানাসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃক চাঁদপুরে দ্বিতীয় ধাপে ১০৯টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ নতুন বসতঘর দেওয়া হয়েছে। মাত্র এক টাকার সালামিতে এসব পরিবারকে ওই বসতঘরের সঙ্গে দুই শতাংশ জমিও স্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, এই বসতঘরগুলো গৃহহীন পরিবারের মাথার ওপরে একটি ছায়া হবে। যেন তারা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কষ্ট না পায়। তাই মাত্র এক টাকার সালামিতে তাদেরকে বসতঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে জমি রেজিস্ট্রেশন স্বাপেক্ষে নামজারিও করে তা দেওয়া হয়। তবে এ বসতঘরগুলো যাদেরকে দেওয়া হয়, তারা অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করতে পারবে না।

এদিকে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দাউদ হোসেন চৌধুরী জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ১৭টি, কচুয়ায় ২টি, মতলব উত্তরে ৩০টি, হাজীগঞ্জে ১০টি, শাহরাস্তিতে ৩০টি এবং হাইমচরে ২০টি পরিবারকে এ ঘর দেওয়া হয়। দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা এসব বসতঘরে রয়েছে একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট ও ইউটিলিটি স্পেস।

অন্যদিকে, বর্তমানে জেলায় ক শ্রেণির গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার রয়েছে ১ হাজার ৬১৭টি। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে একক গৃহের মাধ্যমে ১১৫টি, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪৫টিসহ ১৬০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ২য় পর্যায়ে একক গৃহের মাধ্যমে ১০৯টি এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩২৫টিসহ ৪৩৪টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। খাস জমি উদ্ধার করে জেলায় আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট ক শ্রেণির পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা জায়গা নির্বাচন, মাটি ভরাটসহ প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদের বেতনের টাকায় চাঁদপুরে ২টি পরিবারকে, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২টি এবং বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান প্রধান সংস্থার পক্ষ থেকে ২৫টি বসতঘর দেওয়া হয়েছে। এগুলোসহ বেসরকারিভাবে ১১৮টি বসতঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।



সাতদিনের সেরা