kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

অবশেষে পাকা ঘর পেল সেই এতিম শিশুটি!

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি   

২০ জুন, ২০২১ ০৭:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবশেষে পাকা ঘর পেল সেই এতিম শিশুটি!

এলাকাবাসীর সঙ্গে নিজের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শান্ত। ছবি : কালের কণ্ঠ

'ছোডবেলায় বাবা মারা গেছে। মা-ও আরেকজনেরে বিয়ে কইরা চইলা গেছে। মেলা দিন অইলো। মানষের বাইত থাকতাম। অহন পাকা ঘর পাইলাম। নিজের ঘরে থাকমু।' কথাগুলো বলছিল, শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের খামারবাড়ির দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শান্ত (১৪)। সে জানায়, প্রায় আট বছর আগে তার বাবা মারা গেছেন। পরে তার মা ছোট বোনকে নিয়ে নানার বাড়ি চলে যায়। বছর দেড়েক আগে মা অন্যত্র বিয়ে করে ঘর বেঁধেছেন। এখন তার দিন কাটে খেয়ে না খেয়ে। রাতে থাকে অন্যের বাড়িতে।

স্থানীয়রা জানান, এখানে তাদের ঘর ছিল। তবে খাসজমি হওয়ায় সেখানে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে পাকা ঘর। ওই সময় শিশু হওয়ায় তার জন্য পাকা ঘরের বরাদ্দ হয়নি। এ নিয়ে দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় "নিজগৃহে 'পরবাসী' দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শান্ত!" শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে পড়ে। পরে মানবিক কারণে ওই শিশুর জন্য ওই স্থানেই পাকা ঘরের বরাদ্দ দেওয়া হয়।

আজ রবিবার (২০ জুন) প্রধানমন্ত্রী জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাকা ঘর উপহার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করবেন। এর মধ্যে ওই শিশু শান্তও পাবে পাকা ঘর। এতে খুশি প্রতিবন্ধী শান্তসহ তার আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

জানা যায়, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শান্তর বাবা আফছার আলী ছিলেন খামারবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সেখানে দোচালা একটি টিনের ঘরে বসবাস করতেন। দিনমজুরি করে চালাতেন সংসার। প্রায় আট বছর আগে দুই সন্তান রেখে মারা যান আফছার আলী। এরপর তার স্ত্রী বিধবা ছাহেদা খাতুন কিছুদিন সেখানে ছিলেন। অভাবের তাড়নায় ছেলে শান্তকে রেখে ছোট মেয়ে সাথীকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান। শান্ত মাঝেমধ্যে মায়ের কাছে যেত। বছর দেড়েক আগে তার মায়ের অন্যত্র বিয়ে হয়। ফলে শান্তর সে পথও বন্ধ হয়। শান্তর নানাও দরিদ্র। সেখানেও তার ঠাঁই হয়নি। তাই বাবার রেখে যাওয়া ঘরে থাকত সে। পেট চালাত চেয়েচিন্তে। তাকে সহায়তা করত তার কাকা, কাকি আর প্রতিবেশীরা। পড়ালেখার সুযোগ কখনোই হয়নি।

গত বছর অসহায় দরিদ্র ও ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ আসে প্রধানমন্ত্রীর উপহার একটি করে পাকা ঘর। শিশু হওয়ায় তার জন্য বরাদ্দে জটিলতা দেখা দেয়। ফলে ওই সময় প্রধানমন্ত্রীর উপহার থেকে বঞ্চিত হয় শান্ত।  দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় এ ঘটনার সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি দেখে মানবিক কারণে জেলা প্রশাসক আনারকলি মাহবুব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা আক্তার শিশু শান্তর জন্য একটি ঘর বরাদ্দ দেন।

আজ রবিবার মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলার বিভিন্ন স্থানে পাকা ঘর উপহার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করবেন। এর মধ্য দিয়ে প্রতিবন্ধী শান্তও পাবে পাকা ঘর। পাকা ঘর পাওয়ার আনন্দে শান্ত ও তার আত্মীয়-স্বজনসহ প্রতিবেশীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা আক্তার বলেন, 'মানবিক কারণে তাকে ঘর দেওয়া হলো। এখন তাকে আর অন্যের বাড়িতে থাকতে হবে না।'

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মানবিক ইউএনও হিসেবে আখ্যায়িত করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ওই শিশুর আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকার মানুষ।



সাতদিনের সেরা