kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

'হুইপ পরিবারের কাছে পটিয়ার মাটি-বালুও নিরাপদ নয়'

অনলাইন ডেস্ক   

১৯ জুন, ২০২১ ২৩:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'হুইপ পরিবারের কাছে পটিয়ার মাটি-বালুও নিরাপদ নয়'

মোহাম্মদ নাছির

পটিয়ার মাটি-বালুও হুইপ সামশুল হক চৌধুরী পরিবারের কাছে নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও বিজিএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির।

শুক্রবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ৯টায় পটিয়ার একটি রেস্টুরেন্টে পটিয়া উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, হুইপ পরিবার পটিয়া উপজেলাকে দেশের একটি বির্তকিত উপজেলায় পরিণত করেছে। পটিয়াতে আওয়ামী লীগ সরকার চারদিকে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দিচ্ছে। কিন্তু হুইপ পরিবার উন্নয়নের প্রতিটি কাজে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন করছে। পটিয়ার ১ হাজার ১৫৬ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পটি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করার দাবি পটিয়াবাসীর।

বিজিএমইএ সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির বলেন, রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকতে পারে। তাই বলে এই নয় যে, পটিয়ার মাটিতে আর কেউ আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে পারবে না। পটিয়াজুড়ে হুইপ পরিবারের বিরুদ্ধে মানুষ সোচ্চার হয়েছে। তাদের পরিবারের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে মাঠে ঘাটে আন্দোলন হচ্ছে।  পটিয়াকে যারা কলঙ্কিত করেছে তাদের কখনো পটিয়াবাসী ক্ষমা করবে না। আজ পটিয়ার মানুষ পরিবর্তন চায়।

পটিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপত্তায়হীনতায় ভুগছেন জানিয়ে নাছির বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা সবসময় শ্রদ্ধার পাত্র। হুইপ পরিবারের কাছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা পর্যন্ত নিরাপদ নয়। পটিয়াতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির নামে দুর্বৃত্তায়ন চলছে। পটিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন আহমেদকে হুইপ পরিবার থেকে লুঙ্গি খুলে পেটানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কেউ যদি তাদের অসম্মান করে তার প্রতিবাদ করাও প্রতিটি জনগণের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। অবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন আহমদকে হুমকি দাতাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

পটিয়া উপজেলার সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে জানিয়ে নাছির বলেন, যেকোনো অনিয়ম-দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে পটিয়ার সাংবাদিকদের কলম ধরার জন্য অনুরোধ জানাই। পটিয়াতে কর্মরত সাংবাদিকদের ভয়কে দূর করে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ করতে হবে। সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম কারো প্রলোভনে না পড়ে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কলম ধরেছিলেন। তাকেও কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু সাংবাদিক সমাজ সোচ্চার এবং সাহসী প্রতিবাদ করায় জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার মিডিয়াবান্ধব, তাই আপনাদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকতে চাই। সর্বোপরি পাঠকদের রুচি এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী স্বাধীনতা বজায় রেখে সংবাদ পরিবেশনের প্রত্যাশা রইল।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা এম এ জাফর, মাস্টার সিরাজুল ইসলাম, মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম নবী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দীন, নাজিম উদ্দীন ও মহিউদ্দিন মহিসহ প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা