kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

কুলাউড়ায় স্বপ্নের বাড়িতে ওঠার অপেক্ষায় ১০০ পরিবার

স্বপ্নেও ভাবিনি কখনো একটি পাকা ঘর পাব

মাহফুজ শাকিল, কুলাউড়া   

১৯ জুন, ২০২১ ২১:৫৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



স্বপ্নেও ভাবিনি কখনো একটি পাকা ঘর পাব

আর মাত্র এক দিন বাকি। “আশ্রয়নের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার” মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে ভূমিসহ একটি পরিপূর্ণ ঘর পাচ্ছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ১০০ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তৈরি হচ্ছে এসব গৃহহীনদের জন্য স্বপ্নের বাড়ি। চারিদিকে ইটের দেয়াল এবং মাথার ওপরে দেওয়া হচ্ছে সবুজ টিনের ছাউনি। তাদের সেই কাঙ্খিত স্বপ্ন বাস্তবে প্রতিফলিত হচ্ছে রবিবার।

রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশের ন্যায় কুলাউড়ায় নির্মিত এই ঘরগুলো উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই কার্যক্রমকে সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন বিরামহীনভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

আজ শনিবার সেই গৃহনির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ আবু জাফর রাজু। পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ আবু জাফর রাজুর সাথে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম, কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় ভূষণ রায়, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শিমুল আলী, পৃথিমপাশা ইউপি চেয়ারম্যান নবাব আলী বাকর খান, কর্মধা ইউপি চেয়ারম্যান এম এ রহমান আতিক, পৃথিমপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মো. আব্দুল মনাফ, যুগ্ম সম্পাদক নবাব আলী সাজ্জাদ খানসহ স্থানীয় এলাকার গণমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সরেজমিন শনিবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে কর্মধা ইউনিয়নের টাট্টিউলী এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ১০টি নতুন ঘরগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে সবুজ রঙের টিন। দুই রুমবিশিষ্ট বাড়িতে রয়েছে একটি রান্নাঘর, টয়লেট ও স্টোর রুম। ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেছে। এখন শুধু ঘরগুলো উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তরের অপেক্ষায়। পরিদর্শনে এসে ঘরের কাজের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ আবু জাফর রাজু। এ সময় তিনি উপকারভোগীদের সাথে কথা বলে তাদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং উপকারভোগীদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া কামনা করেন।

ফয়জুন বেগম (৪৬)। তাঁর স্বামী মৃত মনা মিয়া। গ্রামের বাড়ি কুলাউড়ার কর্মধা ইউনিয়নে। ১ ছেলে ও ২ মেয়ে সন্তান রয়েছে তার। মানুষের বাড়িতে গৃহপরিচারীকার কাজ করে তার জীবিকা নির্বাহ হয়। তিনি দীর্ঘদিন তার ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রিত ছিলেন।

আজিরুন বেগম (৪৫)। তার স্বামী মৃত কালা মিয়া। তার বাড়ি কুলাউড়ার কর্মধা এলাকায়। ১ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তান রয়েছে তার। সেও অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে পরিবার চালাতেন। সবাই গৃহহীন হয়ে বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে আশ্রিত ছিলেন এখন সরকারি ঘর পেয়ে তারা বেজায় খুশি। কিন্তু মুজিববর্ষ উপলক্ষে তাদের ভাগ্যে বদল হয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে জমিসহ পেলেন একটি পরিপূর্ণ পাকা ঘর।

স্বপ্নের নতুন ঘর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, শেখের বেটি (শেখ হাসিনা) কারণে আমরা নতুন ঘর পাচ্ছি। কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি একটি পাকা ঘর পাব। কিন্তু শেখের বেটির কারণে আমাদের সেই কাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। দীর্ঘদিন অন্যের বাড়িতে আশ্রিত ছিলাম এখন আমরা নিজেদের বাড়িতে উঠব। সেটা আমাদের কাছে একটা স্বপ্ন মনে হচ্ছে। এখন মরার আগেও কিছুদিন শান্তিতে বাঁচতে পারব। প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের মাথা গুজার ঠাঁই করে দিচ্ছেন।

ঘরের কাজের সার্বিক তদারকি করছেন উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সফি আহমদ সলমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজরাতুন নাঈম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ শিমুল আলী। সহযোগিতা করছেন সংশ্লিস্ট এলাকার ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারবৃন্দ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলায় আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০০টি পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘরের খরচ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ঘরগুলো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক তালিকাভুক্ত ৪৪০ ভূমিহীন পরিবার রয়েছে। তার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১১০ ভূমিহীন পরিবার পেয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার। দ্বিতীয় পর্যায়ে উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে ৩৩টি, জয়চন্ডীতে ১১টি, রাউৎগাঁওয়ে ৪টি, টিলাগাঁওয়ে ১১টি, পৃথিমপাশায় ১০টি, কর্মধা ১০টি, শরীফপুরে ১৬টি, হাজিপুরে ৪টি, বরমচালে ১টি ভূমিহীন পরিবার পাচ্ছে এই ঘর। প্রতি পাঁচটি ঘরের জন্য দেয়া হবে একটি করে ডিব টিউবওয়েল এবং বিদ্যুতায়নও করা হবে ঘরগুলো।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শিমুল আলী বলেন, ভূমিহীনদের জন্য ঘরগুলো নির্মাণ কাজ যখন শুরু হয় তখন থেকেই ইউএনও স্যার নিজেই উপস্থিত থেকে দেখভাল ও তদারকি করছেন। কাজের যেন কোনো অনিয়ম না হয় সেই দিকে তিনি সবসময় দৃষ্টি রাখছেন। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার হিসেবে সারা দেশের ন্যায় কুলাউড়ায়ও ১০০ ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ঘরনির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়। ঘরের কাজ শেষ এখন শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের কাছে স্বপ্নের বাড়িগুলো হস্তান্তর করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনের পর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রথম দিনে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ৫০ জন উপকারভোগীদের হাতে কবুলিয়ত, নামজারি খতিয়ান, গৃহ হস্তান্তরের সনদপত্র প্রদান করা হবে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সফি আহমদ সলমান বলেন, কুলাউড়ায় গৃহহীন কোনো পরিবার রাখা হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে উপজেলার সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। 



সাতদিনের সেরা