kalerkantho

সোমবার । ১১ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৬ জুলাই ২০২১। ১৫ জিলহজ ১৪৪২

বামনার ৩ ইউপিতে নৌকার ভড়াডুবির আশঙ্কা

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৯ জুন, ২০২১ ২০:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বামনার ৩ ইউপিতে নৌকার ভড়াডুবির আশঙ্কা

আগামী ২১ জুনের প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বরগুনার বামনা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টিতে সরকার দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের ব্যাপক ভরাডুবির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের দিন কয়েকটি ইউপিতে সহিংসতা ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।

বামনা উপজেলার মানুষের বিভিন্ন দাবি নিয়ে সবসময়ে সোচ্চার থাকা কয়েকটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বামনা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের মধ্যে শুধুমাত্র বামনা সদরের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া বাকি ৩টি ইউপিতে দলটির প্রার্থীদের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর এর জন্য তিনি দলের নীতিনির্ধারকদের যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়াকে দায়ী করেন।

জানা গেছে, বামনা উপজেলার সদর ইউপিতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান চৌধুরী কামরুজ্জামান সগির, বুকাবুনিয়ায় মীর আসাদুজ্জামান, রামনায় মো. নজরুল ইসলাম জোমাদ্দার ও ডৌয়াতলায় মো. কামরুল ইসলাম নিজাম মৃধা।

ইউনিয়ন গুলোর সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বামনা সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের চেয়ে এ ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চৌধুরী কামরুজ্জামান সগির নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন বেশ ফুরফুরা। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত কবীর হাওলাদার (চশমা)। এলাকায় এই প্রার্থীর তেমন প্রচারণা না থাকলেও তিনি দুইবারের চেয়ারম্যান ছিলেন সেহেতু এবারেও তার বাক্সে বিএনপির কিছু ভোট ঢুবে। তবে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল সিকদার (ঘোড়া) নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। তাই এই প্রার্থীর প্রচারণাও নেই।

এদিকে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজ আলম মহারাজ (টেবিলফ্যান) এলাকায় প্রচারণা চালালেও ভোটের মাঠে তেমন প্রভাব নেই। ফলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নিরঙ্কুশ বিজয়ের সম্ভবনা রয়েছে এই ইউপিতে।

বুকাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মীর আসাদুজ্জামানের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে শক্তিশালী দুজন প্রার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন বর্তমান চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সবুজ ও ওই ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাইদ মোল্লার ছেলে মো. লিটন মোল্লা। এই দুজনেরই রয়েছে ভোট ব্যাংক। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অধিকাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নেপথ্যে সমর্থন করায় এ ইউনিয়নেও আওয়ামী লীগের ভরাডুবি ঘটতে পারে।

রামনা ইউনিয়ন পরিষদে সরকার দলীয় প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জমাদ্দার এর পক্ষে আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী একাট্টা হলেও এ ইউনিয়নের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস) আ. খালেক জমাদ্দারের রয়েছে বিপুল ভোট ব্যাংক। এ ইউপিতেও নৌকার বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন অনেকেই।

এদিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ইউনিয়ন হলো ডৌয়াতলা ইউনিয়ন। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামরুল ইসলাম নিজাম মৃধার শক্ত প্রতিপক্ষ বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান মিজান। তার এলাকায় রয়েছে ব্যাপক জনসমর্থন। এলাকার উচ্চশিক্ষিত ভোটাররা স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরোধিতা করলেও সাধারণ মানুষের ভোটে তিনি পুনারায় নির্বাচিত হবেন এমন আশা তার কর্মী সমর্থকদের। 

এদিকে নির্বাচনের দিন ডৌয়াতলা ইউপিতে কোনো প্রার্থী ভোট কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করলে ব্যাপক সহিংসতা ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে।

বামনা থানার ওসি মো. বশিরুল আলম বলেন, নির্বাচনের সহিংসতা এড়াতে ৪টি ইউনিয়নে একাধিক মোবাইল টিম বর্তমানে মোতায়ন রয়েছে। আমরা ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা করে সেকল স্থানে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়ন রাখব। আমরা আশা করি কোনো প্রকার সহিংসতা ছাড়াই এ উপজেলায় অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।  



সাতদিনের সেরা