kalerkantho

শুক্রবার । ৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৩ জুলাই ২০২১। ১২ জিলহজ ১৪৪২

স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের ওপর নৌকার সমর্থকদের হামলার অভিযোগ

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৯ জুন, ২০২১ ১৩:০২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের ওপর নৌকার সমর্থকদের হামলার অভিযোগ

নৌকার সমর্থকদের হামলায় আহত একজন। ছবি : কালের কণ্ঠ

বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের উপর হামলা, প্রচার-প্রচারণায় বাঁধা ও হুমকি-ধামকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এলাকার সাধারণ ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলার ৬ নম্বর কাজিরাবাদ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন মো. মোশাররফ হোসেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেনসহ আরো ৪ জন স্বতন্ত্র প্রাথী এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেনের কর্মীরা জানান, আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীরা সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি প্রর্দশন হামলা ও মামলার হুমকি দিচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাধারণ ভোটারদের সাথে সাক্ষাত করলে ও প্রচার-প্রচারণায় বের হলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সর্মথকেরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে মহড়া এবং হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভোট দিতে যাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছেন তাঁরা।

এছাড়া ওই এলাকার ৫টি ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবী স্বতন্ত্র প্রার্থীর। কেন্দ্রগুলো হলো- ১ নম্বর ওয়ার্ডের জমির উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২ নম্বর ওয়ার্ডের কুমড়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫ নম্বর ওয়ার্ডেও মধ্য বকুলতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আওয়ামী লীগ প্রাথীর বাড়ির সামনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আয়লা চান্দখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আয়লা চান্দখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ন বলে অভিযোগ।

আয়লা চান্দখালী বাজারের রাস্তা থেকে যাতে প্রশাসনের গাড়ী সহজে ঢুকতে না পারে সে জন্য ইতোমধ্যে ওই কেন্দ্রে যাওয়ার পথে যাতায়াত করার জন্য রাস্তাটি  কেটে ফেলা হয়েছে।

গত ১২ জুন সন্ধ্যার পরে মন্নানের বাজার এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল হোসেনের কর্মীদের উপর হামলা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মীরা। এসময় আনসার আলীর ছেলে ইমরান হোসেন, সুলতান আহমেদের ছেলে সবুজ গুরুতর আহত হয়।

গত ১৫ জুন মীরের হাট এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল হোসেনের অফিস ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কর্মীরা। এ সময় হালিম শেখের ছেলে ফোরকান শেখ ও নাদের আলী ভূঁইয়ার ছেলে মনির ভূঁইয়া গুরুতর আহত হন। আহতরা বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ব্যাপারে বরগুনা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয়েছে।

গত ১৬ জুন কুমড়াখালী বাজারে সন্ধ্যার পরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের উপর অর্তকিত হামলা চালায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত কর্মীরা। এতে নাসির মিয়ার ছেলে সাব্বির আহমেদ, মুনছুর আলীর ছেলে আব্দুর মান্নান এবং  মন্নান আলীর ছেলে শাওন গুরুতর আহত হয়। আহতদের বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামাল হোসেনের সর্মথক ডাক্তার আব্দুল মান্নান ও আব্দুল লতিফ জানান,‘নির্বাচন সুষ্ঠু হলে এবং ভোটাররা ভোট দিতে পারলে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল হোসেন মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করবে।'

আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোশাররফ হোসেনে বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন,‘সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে পারলে আমার বিজয় নিশ্চিত জেনে আমার কর্মীদের প্রচার-প্রচারণায় বাঁধা দিচ্ছেন এবং হামলা ও হুমকি দিচ্ছেন।’

অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ সর্মথিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. মোশাররফ হোসেন বলেন,‘এসব অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা। জনগণ আমার উন্নয়ন কাজ মূল্যায়ন করবে এবং তাঁদের ভোটে বিজয় লাভ করবো।’

বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন,‘অবাধ , সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন করার লক্ষ্যে আইন-শৃংখলা বাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতকর ঘটনার খবর পেলে তাৎক্ষনিক পুলিশের বিশেষ টিম সেখানে ছুটে যাচ্ছে।'

 



সাতদিনের সেরা