kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

মুজিববর্ষে পাকা ঘর

'হাসিনারে আল্লায় বালা রাখউক্কা'

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৯ জুন, ২০২১ ১০:৩০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



'হাসিনারে আল্লায় বালা রাখউক্কা'

‘আগে মাইনসের দাইরো ছেইছো থাকছি। এখন শেখ হাসিনায় একখান পাকা ঘর দিছইন। আমার লাখান আরো অনেক মানুষরে শেখ হাসিনায় পাকা ঘর দিছইন। এখন আমরা বাইচ্চাখাইচ্চা লইয়া আরামো আছি। হাসিনারে আল্লায় বালা রাখউক্কা।’

এভাবেই মুজিব জন্মশত বর্ষে ভূমিহীন-গৃহহীনদের দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ভূমিসহ পাকা ঘর পেয়ে কতৃজ্ঞতা প্রকাশ করেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দেখার হারপাড়ের নবীনগর গ্রামের হতদরিদ্র গৃহিনী রুবী আক্তার।

তার মতো একই উপজেলার খাইক্কারপার গ্রামের আয়াতুন নেসা, সিতারা বেগম এবং হাবিবুর রহমানও বেজায় খুশি। দিন আনে দিন খায় এসব পরিবারের হতদরিদ্র মানুষজন ভূমিসহ পাকাঘর সরকারের পক্ষ থেকে উপহার পাবেন এটা স্বপ্নেও ভাবেননি। তাই তাদের চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিকের সঙ্গে সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতাও।

সরেজমিন বৃহষ্পতিবার দুপুরে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার খাইক্কারপাড় ও একই উপজেলার নবীনগর গ্রামে গিয়ে উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রি দলিল পাওয়ার আগেই তারা ঘরে উঠে গেছেন। বসবাস করছেন পরিবার পরিজন নিয়ে। এখন তাদের একঘুমে রাত পার হচ্ছে।

খাইক্কারপাড় সুনামগঞ্জ সিলেট সড়কের শহিদ তালেব সেতুর (আসানমারা সেতু) খাড়া পূর্ব দিকের একটি গ্রাম। দুই দিকেই দেখার হাওরের বিস্তার। মাঝের কান্দায় গড়ে ওঠেছে গ্রামটি। এক সময় গ্রামের মাথায় হাওরের সুস্বাদু মিঠাপানির খাইক্কা বা কাকিলা মাছ প্রচুর পাওয়া যেতো। এ কারণেই গ্রামের নামকরণ হয় খাইক্কারপাড়। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই হতদরিদ্র ও ভূমিহীন। দীর্ঘদিন ধরে তারা জাঙ্গালে হাওরের ঢেউ-জল-বাতাসের দাপট সহ্য করে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন। এই গ্রামের হতদরিদ্র ও দিনমজুর ভূমিহীন ৬২টি পরিবারকে বাছাই করে মুজিবর্ষের উপহার পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এভাবে উপজেলার অন্যান্য গ্রামের সুবিধাভোগীদেরও বাছাই করা হয়েছে। তাদের ঘরগুলোও প্রস্তুত। সপরিবারে সেসব ঘরে উঠে গেছেন অনেকে।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে আগামী ২০ জুনের মধ্যে হস্থান্তরের জন্য ২৬১টি পাকা ঘর প্রস্তুত। সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের পরামর্শে স্বচ্ছভাবে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা করেন স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা।

নানা প্রতিবন্ধকতা দূর করে ইতোমধ্যে টানা কাজ করে লাল সবুজ রঙের দুই কক্ষ বিশিষ্ট টিনশেড পাকা ঘর এখন দৃশ্যমান। আগামী ২০ জুন রবিবার সারাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ২৬১টি ঘরও হস্তান্তর করা হবে। ওইদিন প্রশাসন মুজিব বর্ষের লগো সম্বলিত ফোল্ডারে কবুলিয়ত দলিল হস্থান্তর করবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেবে এই উপহারের স্মারক।

খাইক্কারপাড় গ্রামের ৮ সন্তানের জননী সিতারা বেগম। স্বামী দিন মজুর। জাঙ্গালে খুপড়ি ঘর করে বসবাস করতেন। এবার শেখ হাসিনার উপহার পাকা ঘর পেয়েছেন তিনি। কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় ঘরে উঠে গেছেন। তার ঘরটির দুই দিকেই পানি। পড়ন্ত বিকেলে দুর্গম হাওরের পাড়ে তৈরি এই দুই কক্ষের লাল সবুজ রঙা পাকা ঘরটির ছায়া হাওরের স্থির পানিতে দেখতে অন্যরকম লাগছিল। বারান্দায় বসে কাজ করছিলেন তিনি। সিতারা বেগম বলেন, ‘৮ জন বাইচ্চা-কাইচ্চা লইয়া বড় হেরানো আছলাম। এখন ঘর পাইয়া শান্তিতে বাইচ্চাইনরে লইয়া আছি। তিনি বলেন, ‘আমরা গরিবের জন্য শেখ হাসিনার রহমত হামাইছে। তাই আমরারে পাকা ঘর খইরা দিছইন। আল্লায় তাইনের হায়াত বাড়াইয়া দিবেন’।

তার পাশের ঘরের হাবিবুর একজন মৎস্যজীবী। হাওরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনিও একটি ঘর পেয়েছেন। সেখানে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, ‘আমার জাগা-বাড়ি কুন্তা আছিলনা। এখন ঘর দুয়ার পাইছি। জাগা পাইছি। আমি খুব খুশি।’

একই গ্রামের হতদরিদ্র আয়াতুন নেসা বলেন, ‘ গরোর লাগি খতো ঝরি, তুফান খাইছি। অনে শেখ হাসিনায় সুন্দর একটা ঘর দিছইন। আল্লায় তাইনরে বালা রাখবা’। এভাবে শেখ হাসিনার উপহার পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন সুবিধাভোগীরা।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, দ্বিতীয় দফা ঘরগুলো প্রস্তুত করতে মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে আমরা অক্লান্ত কাজ করেছি। এখন সবগুলো ঘর প্রস্তুত। সুবিধাভোগীদের সবাই ঘর পেয়ে অত্যন্ত খুশি।



সাতদিনের সেরা