kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

ভূরুঙ্গামারীতে করোনা সংক্রমণ দুই দিনে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৯ জুন, ২০২১ ০৮:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভূরুঙ্গামারীতে করোনা সংক্রমণ দুই দিনে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি

সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ক্রমশ বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। উপজেলায় গত দুই দিনের ব্যবধানে সংক্রমণের হার বেড়ে পৌছেছে ৬৫ শতাংশে। এছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে জ্বরে ভুগছে উপজেলার প্রায় ৬০শতাংশ মানুষ। করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫ জন।

উপজেলা স্বাস্হ‍্য বিভাগের দাবি করোনার নমুনা দিতে মানুষের মাঝে অনীহা থাকায় উপজেলায় করোনা রোগীর প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। এ সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ১৫ জুন রংপুর মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ১৫ জনের জনের নমুনা পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার প্রাপ্ত ফলাফলে এদের ১০ জনের করোনা পজিটিভ আসে। ওই দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র‍্যাপিড এন্টিজেন টেস্টে ৫ জনের মধ্যে আরও ৩ জন করোনা পজিটিভ হয়।

আক্রান্ত ১৩ জনের মধ্যে সদর ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারীয়া গ্রামের ৩ জন, দেওয়ানের খামার গ্রামের ৩ জন, গোপালপুর গ্রামের ১ জন,জয়মনির হাট ইউনিয়নের ছোট খাটামারীতে ২ জন (স্বামী-স্ত্রী), পাথরডুবি ইউনায়নের বাশজানিতে ১ জন, পাইকের ছড়া ইউনিয়নে ১ জন, তিলাই ইউনিয়নের পশ্চিম ছাট গোপালপুরে ১ জন। ভূরুঙ্গামারী থানার এসআই ১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৪ জন নারী ও ১ জন শিশু। আক্রান্তদের গড় বয়স প্রায় ৪৫ বছর। এই নিয়ে উপজেলায় মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ১০১ জন। সুস্থ্য হয়েছেন ৮৩ জন। মোট নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৮৫ জনের।

উপজেলায় হঠাৎ করে করোনা প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে এই এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা ও সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকের চালক,সহকারীদের অবাধ চলাচলকে দায়ী করছেন অনেকে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু সাজ্জাদ মোহাম্মদ সায়েম বলেন, 'আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িগুলো লকডাউন করা হয়েছে। সংক্রমনের ভয়াবহতা ঠেকাতে উপজেলা প্রসাশন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে। করোনা সংক্রমনের এই উচ্চহার উদ্বেগজনক। কিন্তু মানুষকে কোনভাবেই সচেতন করা যাচ্ছে না। সচেতন না হলে সংক্রমণ আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।' তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক ব্যবহার করার জন্য সকলকে অনুরোধ করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপক কুমার দেব শর্মা জানান, জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আমাদের প্রচার প্রচারণা ও মাস্ক বিতরণ কর্মসূচী অব্যাহত আছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে এলাকা লকডাউনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়ানোর জন্য বিজিবিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সোনাহাট স্থল বন্দরের কার্যক্রম এখন অনেকটাই সীমিত। তারপরও যে কয়েকটি মালবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে সেগুলোর চালক ও সহকারীদের স্বাস্থ্যবিধি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে মেডিক্যাল টিম।



সাতদিনের সেরা