kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

আমতলীতে নির্বাচনী সহিংসতা, বাড়ছে দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৮ জুন, ২০২১ ২০:২৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আমতলীতে নির্বাচনী সহিংসতা, বাড়ছে দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার

বরগুনার আমতলী উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে তত সংঘাত ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি নির্বাচনী সংঘর্ষের ঘটনায় অর্ধশত জন আহত হয়েছে। বাড়ছে দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার। পুলিশ প্রতিটি ইউনিয়নে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫টি ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি সংঘর্ষে লাঠিসোঁটার পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র দা, রামদা, ছেনা, চাপাতিসহ ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া প্রতিটি সংঘর্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীসহ তাদের অর্ধশতাধিক কর্মী-সমর্থকরা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গত শুক্রবার রাতে গুলিশাখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম মনি ও অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগ নেতা আসাদুর রহমান আসাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে গুলিশাখালী ও গোজখালী বাজারে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সহিংস হামলায় উভয় পক্ষের নারীসহ ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের আমতলী ও পটুয়াখালী ও বরিশাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার রাতে উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী ইউপি সদস্য প্রার্থী আ. জব্বার প্যাদা ও অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বর্তমান ইউপি সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম মাতুব্বরকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা থেকে সরে যেতে জীবননাশের হুমকির ঘটনায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কোপাকুপিতে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ উভয় পক্ষের ১২ জন গুরুতর আহত হয়।

সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানী বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাড. মো. মনিরুল ইসলাম মনি এবং অপর প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী যুবলীগ নেতা আসাদুর রহমান আসাদ মৃধা সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এখানেও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে মহিলাসহ উভয় পক্ষের আট কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছে। আহতদের ওই রাতেই আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। একই দিন সন্ধ্যায় উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া বাজারে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী শ্রমিক লীগ নেতা আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিকের আনারস মার্কার নির্বাচনী অফিসের কেয়ারটেকার বেল্লাল মোল্লাকে মারধোর করার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম মৃধার বিরুদ্ধে।

এ সময় নৌকা মার্কার নির্বাচনী অফিসও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই দিন সন্ধ্যার পরে আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সোহেলী পারভীন মালা তার কর্মী-সমর্থকদের সাথে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারে গণসংযোগ করতে যান। এ সময় অপর প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের আনারস মার্কার এক কর্মীকে নৌকা মার্কার এক সমর্থককে ধাক্কা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।

গত মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র করে আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই সদস্য প্রার্থী বর্তমান ইউপি সদস্য মো. জসিম উদ্দিন ও সাবেক ইউপি সদস্য বাহাদুর হাওলাদারের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জসিম উদ্দিনের কর্মী-সমর্থকরা অপর সদস্য প্রার্থী বাহাদুর হাওলাদারসহ তার দুই সমর্থককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এতে জসিম উদ্দিনের এক কর্মীও গুরুতর আহত হন। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে আনে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে পটুয়াখালী ও বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ দিন সন্ধ্যায় চাওড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী, বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান বাদল খানের তালুকদার বাজারের নির্বাচনী অফিসটি ভাঙচুর করেছে অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড. মো. মহসিন মিয়ার কর্মী-সমর্থকরা। তারা অর্ধ শতাধিক মোটরসাইকেলযোগে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অফিসের ঢুকে চেয়ার টেবিল ভাঙচুরের পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নির্বাচনী পোস্টার ছিড়ে ফেলেছে বলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় নৌকার ২ সমর্থক আহত হয়েছে।

অপরদিকে একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া প্রতিটি নির্বাচনী সহিংসতায় লাঠিসোঁটার পাশাপাশি বাড়ছে দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার। প্রতিটি সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের অধিকাংশ দেশীয় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে। দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার কমাতে পুলিশ প্রতিটি ইউনিয়নে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

আমতলী থানার ওসি মো. শাহ আলম হাওলাদার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া নির্বাচনী সংঘর্ষে লাঠিসোঁটা ব্যবহারের পাশাপাশি দেশীয় ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহাররোধে আমরা প্রতিদিন প্রতিটি ইউনিয়নে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছি। বিভিন্ন ইউনিয়নে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত আমতলী থানায় ৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা