kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

বগুড়ার নন্দীগ্রাম

ফাঁদে ফেলে বাড়িতে এনে টাকা আদায়, প্রতারক চক্রের তিন সদস্য রিমান্ডে

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি    

১৮ জুন, ২০২১ ১৪:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফাঁদে ফেলে বাড়িতে এনে টাকা আদায়, প্রতারক চক্রের তিন সদস্য রিমান্ডে

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাড়িতে ডেকে এনে বিবস্ত্র করে ছবি তুলে টাকা আদায়কারী প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ শুক্রবার (১৮ জুন) সকালে নন্দীগ্রাম থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বৃহস্পতিবার বিকালে তাদের বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুকের আদালতে হাজির করে সাত দিন করে রিমান্ড চাইলে বিচারক তিন দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে নেয়া আসামিরা হলেন- নন্দীগ্রাম উপজেলার ভদ্রদীঘি গ্রামের প্রবাসী সুজন প্রামাণিকের স্ত্রী রিনা বেগম (৩৭), তার সঙ্গী একই উপজেলার কহুলী তালুকপুরের গ্রামের  লিটন হোসেন (২২) ও কহুলী গ্রামের গোলাম রাব্বি (২০)।

পুলিশ ও এজাহার সূত্র জানায়, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার কালাকান্দর গ্রামের মৃত আবদুল বারেকের ছেলে আবদুল মোত্তালেব (৩৬) সিলেটে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। গত দেড় মাস আগে ‘শিপলু সাথী’ নামের একটি ফেসবুক আইডির মাধ্যমে রিনা বেগমের পরিচয় হয়। মাঝেমধ্যে চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। মোত্তালেব কয়েকদিন আগে স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে দেখা করার জন্য গুরুদাসপুর আসার পরিকল্পনা করেন। রিনা বেগম তা জানতে পেরে তাকে বার বার নিজ বাড়িতে দেখা করার জন্য অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে সরল বিশ্বাসে তিনি রাজি হন। পরামর্শ অনুসারে গত ১৬ জুন বেলা সাড়ে ১০টার দিকে নন্দীগ্রামের ভদ্রদীঘি গ্রামে প্রধান আসামি রিনা বেগমের বাড়ির সামনে পৌঁছেন। এ সময় রিনা বেগম ও আরো দুজন তাকে আপ্যায়নের নামে বাড়ির ভিতরে নিয়ে যান। তাদের আচরণে মোত্তালেব ভয় পেয়ে যান। তিনি বাড়ি যেতে চাইলে তারা মোত্তালেবকে আটকে দেন এবং এক লাখ টাকা দাবি করে। রাজি না হলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে আরো চার যুবক বাড়িতে আসেন। ছয় জন মিলে হাত-পা বেঁধে মারপিট করতে থাকেন। পকেট থেকে সাত হাজার টাকা নিয়ে নেন তারা। এরপর তাকে বিবস্ত্র করে মোবাইল ফোনে ছবি তোলা হয়। এ ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে এবং পরিবারকে দেখানোর হুমকি দেওয়া হয় তাকে। মারপিটের মাত্রা বেশি হলে তিনি (মোত্তালেব) কিছু টাকা দিতে রাজি হন। বিকালে স্বজন ও পরিচিতদের কাছে ফোন করলে তারা দু’দফা ১৭ হাজার ২০০ টাকা বিকাশ করেন। আসামিরা আরো ৮৫ হাজার টাকা দাবি করেন। মোবাইল ফোনে থাকা মেমরি কার্ড, মানি ব্যাগে থাকা দুটি ব্যাংকের এটিএম কার্ডও কেড়ে নেন তারা। এছাড়া সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দুটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় মোত্তালেবকে। ছাড়া পেয়ে ভুক্তভোগী ভ্যানযোগে নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে আসেন। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন তিনি। 

পরে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নন্দীগ্রাম থানায় গিয়ে প্রতারক চক্রের হোতা রিনা বেগম, তার সহযোগী লিটন হোসেন, গোলাম রাব্বী ও কহুলী গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে বুড়ইল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বুলু মিয়ার (৫৫) বিরুদ্ধে মামলা করেন।

নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে শুনানী শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জব্দ করা হয়েছে রিনা বেগমের বাড়ি থেকে সিসিটিভির ডিভিআর। অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



সাতদিনের সেরা