kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

থৈ থৈ পানিতে কবর দেয়ার মাটি নেই, অবশেষে চৌবাচ্চা বানিয়ে দাফন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি    

১৮ জুন, ২০২১ ১২:৪৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



থৈ থৈ পানিতে কবর দেয়ার মাটি নেই, অবশেষে চৌবাচ্চা বানিয়ে দাফন

বাড়ির আঙিনা, ফসলের মাঠ কবরস্থানসহ চারিদিকে থৈ থৈ পানি। লাশ দাফনের জায়গা নেই কোথাও। লাশ দাফন করা নিয়ে মহাচিন্তায় পড়ে যান গ্রামের মুরব্বিরা। মৃত দেহ রাখা যাবে না। হাদিস অনুসারে প্রবীণদের মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত দাফনের ব্যবস্থা করতে অভিনব কৌশলের আশ্রয় নিতে হলো গ্রামবাসীদের। নদীতে ভাটার টানে রাস্তার ধারে জেগে ওঠে সামান্য মাটির জমিন। তার চার পাশে ইটের পর ইট সাজিয়ে তার দেয়াল গাঁথুনি। চৌবাচ্চার মতো বানিয়ে ওখানেই কবর দেওয়া হলো। সেখানেই সমাহিত করা হয় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে চলে যাওয়া ওষুধ কম্পানি বিক্রয় প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসানকে (৩৪)।

মৃতদেহ কবরস্থ করার এই মর্মস্পর্শী ঘটনাটি ঘটেছে আজ বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের। প্রতাপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে অসংখ্য বেড়িবাঁধ ভেঙে পানিতে ভেসে যায় আশাশুনির প্রতাপনগরের বিস্তীর্ণ জনপদ। নদ নদী এলাকায় শুকনো মাটির অভাবে ভেঙে যাওয়া বাঁধগুলো পরিপূর্ণ সংস্কার করা যায়নি। এ অবস্থায় গ্রামগুলোতে জোয়ার-ভাটা বিদ্যমান। নদীর পানির সাথে একাকার হয়ে যাওয়ায় গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে অথৈ পানি।

দুর্যোগের এই সময়ে বৃহস্পতিবার ভোরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান প্রতাপনগর গ্রামের শহিদুল ইসলাম গাজীর ছেলে মাহমুদুল হাসান। এলাকায় কবর দেয়ার মতো কোথাও মাটি না থাকায় রাস্তার ধারে ইট দিয়ে চৌবাচ্চার মতো গেঁথে তার মধ্যে সমাধিস্থ করা হয় মৃত ব্যক্তিকে। মৃত মাহমুদুল হাসানের পিতা শহিদুল ইসলাম জানান, তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে।

মাহমুদুল একটি ওষুধ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসাবে কলারোয়া উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোররাতে স্ট্রোক করে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার লাশ গ্রামের বাড়ি নিয়ে আসার পর দাফন করা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। এলাকার বাড়ি-ঘরসহ কবরস্থানে বুক সমান পানি। লাশ দাফনের জন্য কোনো জমিন নেই। নদীতে ভাটার টানে পানি কমে রাস্তার ধারে একটু মাটি জেগে উঠলে সেখানে ইট দিয়ে কবরের আদলে ঘর করা হয়। আজ আছরের নামাজের পর জানাযা শেষে তার মধ্যে বাবা সমাহিত করেন প্রিয় সন্তানকে। মাহমুদল হাসানের স্ত্রী এক কন্যাসহ একটি পুত্র সন্তান আছে। 



সাতদিনের সেরা