kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

পীরগঞ্জে বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

রংপুর অফিস    

১৮ জুন, ২০২১ ১০:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পীরগঞ্জে বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের মিঠাপুকুর রেঞ্জের পীরগঞ্জ কাদিরাবাদ বনবিট কর্মকর্তা আবু জার গাফ্ফারীর বিরুদ্ধে বনের গাছ চুরিসহ অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।

ওই বনবিটে রহস্যজনক কারণে একজন বন প্রহরী আবু জার গাফ্ফারীকে এ পর্যন্ত চতুর্থবার বিট কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বনবিট এলাকার মানুষ আবারো ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে। বিটের সুবিধাভোগী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জমির মালিক ও এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট বিভাগে তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, রংপুর বন বিভাগের মিঠাপুকুর রেঞ্জের অধীনে পীরগঞ্জ কাদিরাবাদ বনবিটে কয়েক শ একর জমিতে কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রজাতির লাখ লাখ গাছ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বনের গাছ কাটা, সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা ছাড়াও বাৎসরিক অলিখিত চুক্তিতে অর্ধশতাধিক লোককে বনের জমি চাষাবাদ ও পুকুর খনন করার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সপ্তাহ দুয়েক আগে আবু জার গাফ্ফারী বিট কর্মকর্তা হিসেবে কাদিরাবাদে চতুর্থবার যোগদানের পর আগের মতোই অনিয়ম করে যাচ্ছেন।

গত ৬ জুন বিট এলাকার মদনখালী ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বনের সুবিধাভোগী, এলাকাবাসী এবং জমির মালিকরা ওই বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অত্যাচার ও হয়রানির অভিযোগ আনেন। এ ব্যাপারে বনবিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বনের জমির সঙ্গে লাগোয়া অনেকের পৈতৃক জমি থাকলেও বর্তমান বিট কর্মকর্তাকে বাৎসরিক টাকা দিয়ে জমি চাষাবাদ করতে হচ্ছে। আর ওই টাকা না দিলে হয়রানিমূলক গাছকাটার মামলা দেন তিনি। যারা তাঁর এই চুক্তিতে রাজি হননি তাঁদের বিরুদ্ধে কেনো বন আইনে মামলা করা হবে না'- এমন নোটিশও জারি করেছেন ওই কর্মকর্তা। ইতোপূর্বেও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তাকে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পায়নি।

ভুক্তভোগী খেতাবেরপাড়া গ্রামের মৃত কেকরার ছেলে রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমার পৈতৃক জমিতে পুকুর খনন করলেও বিট কর্মকর্তা গত ১০ জুন নোটিশ দেন। তাতে অভিযোগ করা হয়, আমি বনের জমি খনন করেছি। আমাকে মামলারও হুমকি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, 'ওই বনবিটের ফরেস্ট গার্ড (এফজি) আবু হানিফ জানান, স্যারের (বনবিট কর্মকর্তা) সঙ্গে সিস্টেমে আলাপ করে নিলে মামলাও হবে না, নোটিশও করবে না।'

আরেক অভিযোগকারী জমির মালিক শহিদুল ইসলাম বাবু বলেন, 'মদনখালী মৌজার ২৬৯৪ দাগে আমার বাবার নামে ৬৮ শতক জমি থাকলেও বনবিট কর্মকর্তা আবু জার গাফ্ফারী আমি এবং আমার বাবার বিরুদ্ধে বন আইনে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়ায় আমার বাবা টেনশনেই মারা গেছেন।'

মদনখালী ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল আলম বলেন, 'বনকর্তারাই গাছ চুরির সঙ্গে জড়িত। আর মামলা দেন  সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে।' 

অভিযুক্ত বনবিট কর্মকর্তা আবু জার গাফ্ফারী বলেন, 'উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বারবার আমাকে বনবিট কর্মকর্তার দায়িত্ব দিলে আমি কী করব?' তবে গাছ চুরিসহ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

মিঠাপুকুর রেঞ্জের বনবিট কর্মকর্তা মঞ্জুরুল করিম বলেন, 'অনেক সময় ফায়দা লুটতে অনেকে এমন অভিযোগ তোলেন। তবে অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' 



সাতদিনের সেরা