kalerkantho

শুক্রবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৮। ৬ আগস্ট ২০২১। ২৬ জিলহজ ১৪৪২

কাটা গাছগুলো ধরে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন বৃদ্ধ!

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১৭ জুন, ২০২১ ১৫:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাটা গাছগুলো ধরে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন বৃদ্ধ!

দুষ্কৃতকারীরা রাতের আঁধারে কেটে ফেলেছে শখ করে লাগানো বিভিন্ন ফলদ গাছের চারা। ওগুলো ধরে কাঁদছিলেন অশীতিপর এক বৃদ্ধ। আর বলছিলেন, গাছগুলো আমার শখের লাগানো ছিল। রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন নার্সারি থেকে বেছে বেছে আনা আম, কাঁঠাল এবং কাঠের কিছু গাছ লাগিয়েছিলাম বাড়ির আঙিনায়, সড়কের পাশে। কি অন্যায় করেছিল এ গাছগুলো? এ কেমন নিষ্ঠুরতা! আজ বৃহস্পতিবার সকালে দুষ্কৃতকারীদের গাছ কাটার সংবাদে সরেজমিনে ঘটনাস্থল গিয়ে গাছগুলো জড়িয়ে ধরে ওই বৃদ্ধকে কান্না করতে দেখা যায়। 

ঘটনাটি ঘটে বুধবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের চান্দপুর গ্রামের 'গঙ্গামন্ডল মডেল কলেজ' সড়কের পাশে। ওই সড়কের পাশেই ৮০ বছর বয়সী হাজি মো. মঞ্জুর আলীর বাড়ি। তিনি বলেন, বছর তিনেক আগে আমার ছেলে মো. কামাল হোসেন রাজশাহী থেকে উন্নতমানের আমের চারা, দেশের বিভিন্ন নার্সারি থেকে কাঁঠাল ও কাঠের চারা এনে দেয়। এগুলো আমি নিজ বাড়ির আঙিনায় এবং গঙ্গামন্ডল মডেল কলেজ সড়কের পাশে লাগিয়ে দিই। নিজ সন্তানের মতো গাছগুলোর পরিচর্যা করে আসছিলাম। গাছগুলো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। বছর ঘুরে এলে থোকায় থোকায় ফল ধরার দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় ছিলাম, সে দেখা আর হলো না।  

স্থানীয়রা জানান, রাজশাহীসহ বিভিন্ন নার্সারি থেকে আনা গাছগুলো শখের বশে লাগান তিনি। তাকে প্রতিদিনই গাছগুলো পরিচর্যা করতে দেখতাম। আজ সকালে এসে দেখি ওনার গাছগুলোর মধ্যে আম-কাঁঠাল এমনকি কাঠের বেশকিছু গাছ কুপিয়ে কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। কারা এ কাজ করতে পারে জানতে চাইলে জবাবে বলেন, ওদের নাম বলা যাবে না।

বৃদ্ধ মঞ্জুর আলীর পুত্র মো. কামাল হোসেন জানান, আমরা বাড়িতে থাকি না বাবা থাকেন। বাবার ইচ্ছাতেই কিছু উন্নতমানের আম, কাঁঠালসহ কিছু বৃক্ষের গাছের চারা এনে দিই। সেগুলো বাবা সন্তানের মতোই পরিচর্যা করতেন। খুব খারাপ লাগছিল। বাবা কেটে ফেলা গাছগুলো ধরে হাউমাউ করে কাঁদছিলেন।

এ বিষয়ে মামলা করবেন কি না জানতে চাইলে কামাল হোসেন বলেন, কারা কখন এ গাছগুলো কেটেছে তা দেখিনি। তবে বাড়ির সামনে একটি পাকা দোকানঘর নির্মাণ করেছি, যা এখনো চালু করা হয়নি। ওই দোকানঘরে একদল বখাটে গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা মারত, জুয়া খেলত, মাদক সেবন করত। তাদের বাধা দিই, দোকান ছেড়ে চলে যেতে বলি। ওরা আমার কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে হুমকি দিয়ে যায়। ওই কারণে তারা এ কাজটি করতে পারে বলে সন্দেহ করলেও মামলা করে আর বিপদে পড়তে চাই না।



সাতদিনের সেরা