খাবার বলতে কেবল কাঁচা মাছ, আর তৃষ্ণা মেটাতে লবণাক্ত সমুদ্রের পানি। এসব খেয়েই টানা ৩৬ দিন সাগরে ভেসে থাকা শ্রীলঙ্কার এক বাবা ও তার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছেন কক্সবাজারের মহেশখালীর জেলেরা।
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার জেলেদের উদ্ধার অভিযানে বঙ্গোপসাগর থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া শ্রীলঙ্কার বাবা-ছেলে দুই জেলের দাবি, মাছ ধরতে গিয়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে টানা ৩৬ দিন সাগরে ভেসেছিলেন। এসময় বেঁচে থাকার জন্য লবণাক্ত সমুদ্রের পানি পান করেন এবং কাঁচা মাছ খেয়ে জীবন রক্ষা করেন।
উদ্ধারকারী জেলেরা জানান, শুক্রবার (২৪ জুলাই) বঙ্গোপসাগরের শুলিরধার এলাকায় মাছ ধরতে যাওয়ার পথে একটি ইঞ্জিন বিকল ফিশিংবোট ভাসতে দেখেন তারা। কাছে যেতেই বোটে থাকা দুই ব্যক্তি হাত নেড়ে সাহায্যের আকুতি জানান। ভাষা বুঝতে না পারলেও তাদের অসহায় অবস্থা দেখে দ্রুত নিজেদের ফিশিংবোটে তুলে নেন। পরে শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে তাদের মহেশখালী উপকূলে নিয়ে আসা হয়।
উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার বাসিন্দা এস এইচ চামিন্দা (৫১) এবং তার ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং (৩০)।
উদ্ধারকারী ফিশিংবোটের মালিক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা তাদের উদ্ধার করেছি। প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ ধরার প্রস্তুতি নিয়ে সাগরে গিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের অসহায় অবস্থা দেখে আর মাছ ধরা হয়নি। সবকিছু বাদ দিয়ে তাদের নিয়ে খালি হাতে উপকূলে ফিরে এসেছি।’ তিনি বলেন, সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শ্রীলঙ্কার এই বাবা-ছেলেকে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
উদ্ধার হওয়া দুই জেলের ভাষ্যমতে, প্রায় ৩৬ দিন আগে মাছ ধরার সময় তাদের ফিশিংবোটের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর স্রোতের টানে তারা গভীর সাগরে ভেসে যেতে থাকেন। দীর্ঘ সময় কোনো ধরনের সহায়তা না পেয়ে বেঁচে থাকার জন্য লবণাক্ত সমুদ্রের পানি পান করেন এবং সমুদ্রে ধরা কাঁচা মাছ খেয়ে দিন কাটান।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল সোলতান জানান, উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তি বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। তারা শ্রীলঙ্কার নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের পরিচয়, ৩৬ দিন সাগরে ভেসে থাকার দাবি এবং ঘটনার অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। উদ্ধার হওয়া দুই শ্রীলঙ্কান নাগরিকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কা দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




