kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

মাধবদীতে আ. লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ, দুজন গুলিবিদ্ধসহ আহত ৪

নরসিংদী প্রতিনিধি   

১৬ জুন, ২০২১ ২৩:৫৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাধবদীতে আ. লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ, দুজন গুলিবিদ্ধসহ আহত ৪

মাধবদীতে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে দুজন গুলিবিদ্ধসহ চারজন আহত হয়েছে। আজ বুধবার (১৬ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাধবদী পৌরসভার সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিক পুলিশ গুলিবিদ্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। 

গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, নরসিংদী সদর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাকারিয়া (৪২), আবুল কালাম আজাদ (৩৫)।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করার লক্ষ্যে আজ বুধবার বিকেল ৪টায় স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে নবগঠিত মাধবদী থানা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিএম তালেব হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পীরজাদা কাজী মোহাম্মদ আলীসহ স্থানীয় নেতারা।

অনুষ্ঠান চলাকালে মাধবদী শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মাধবদী পৌরসভার মেয়র মোশাররফ হোসেন প্রধান মানিক তার সমর্থকদের নিয়ে উপস্থিত হয়ে তাকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়ার কারণ জানতে চান। পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক (উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কৃত, পরবর্তীতে সাধারণ ক্ষমা পাওয়া) আনোয়ার হোসেনকে প্রধান অতিথির সঙ্গে আসন দেওয়ায় উপস্থিত নেতাকর্মীদেরকে বিষোদগার করেন। 
এসময় আনোয়ার হোসেন তার প্রতিবাদ করেন। পরবর্তীতে মেয়র অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে তাঁর সমর্থকদের নিয়ে পৌরসভায় অবস্থান নেন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে অনুষ্ঠান শেষে আনোয়ার হোসেন, তাঁর ছোট ভাই সদর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. জাকারিয়া তার সমর্থকদের নিয়ে পৌরসভা মার্কেটে তাদের ব্যক্তিগত অফিসে ফেরার পথে পৌরসভা মোড়ে পৌঁছালে মেয়র মোশাররফ হোসেনের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ হয়। এতে জাকারিয়া ও আবুল কালাম আজাদ নামের দুজন পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাদেরকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত ১১টা পর্যন্ত মাধবদী বাজারে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা মিটিং শেষে আমার অফিসে যাচ্ছিলাম। পৌরসভার মোড়ে যাওয়ার পরপরই মেয়র মোশাররফ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোজাম্মেলসহ ৪/৫ জন অস্ত্র নিয়ে ও তাদের কয়েক শ সমর্থক আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমার ভাই জাকারিয়া ডান পায়ে ও আমার সমর্থক আবুল কালাম বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়া তারা মাথায়ও আঘাত প্রাপ্ত হয়। 

মাধবদী পৌর মেয়র মোশাররফ হোসেন বলেন, আনোয়ার আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা। সে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির সঙ্গে আসন গ্রহণ করেছে। অথচ আমি মাধবদী শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ মনোনীত দুইবারের মেয়র হয়েও দাওয়াত পাইনি। আমি অনুষ্ঠানে গিয়ে জেলার নেতৃবৃন্দকে দাওয়াত না দেওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করেছি। তারা কোনো সদোত্তর দিতে পারেনি। তখন আমি আমার সমর্থকদের নিয়ে পৌরসভায় চলে আসি। পরে আনোয়ার ও তার ভাই জাকারিয়া কয়েক শ লোক নিয়ে পৌরসভায় আমার সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় জাকারিয়া অস্ত্র দিয়ে ৪ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে আমার লোকজন কেউ গুলিবিদ্ধ হয়নি। তবে তাদের হামলায় আমার সমর্থক মামুন, আবদুল হেকিমসহ কয়েকজন আহত হয়েছে।

এ ব্যাপার মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠান হবে তা পুলিশকে অবগত করা হয়নি। তারপরও আমি অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে উত্তেজনা পরিস্থিতি সম্পর্কে দুপক্ষকেই অবগত করেছি। আমার কথার বাইরে গিয়ে আনোয়ার ও জাকারিয়া তার লোকজন নিয়ে পৌরসভার দিকে যাওয়ায় এ সংঘর্ষেও ঘটনা ঘটেছে। তবে কেউ গুলিবিদ্ধ হয়েছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 



সাতদিনের সেরা