kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর প্রশ্ন

পাঁচ জোড়া ট্রেন থামলে বাকিগুলো কেন নয়?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৬ জুন, ২০২১ ০৭:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাঁচ জোড়া ট্রেন থামলে বাকিগুলো কেন নয়?

গত ২৬ মার্চ রেলওয়ে স্টেশনটি ব্যাপক ভাঙচুর-অগানিসংযোগ করে হেফাজতে ইসলাম।

হেফাজতে ইসলামের ব্যাপক তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে অবশেষে ট্রেনের যাত্রাবিরতি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে সেখানে থামতে শুরু করেছে পাঁচ জোড়া মেইল ট্রেন। বুধবার (১৬ জুন) থেকে থামবে একটি আন্ত:নগর ট্রেন। স্টেশনটিতে ইতোমধ্যেই সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।

ট্রেন থামানোর দাবির মুখে ওই ছয়টি ট্রেনের যাত্রাবিরতি বাস্তবায়নে পুরোপুরি খুশি হতে পারেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ। যদিও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে এখানকার যাত্রীদের মাঝে। তবে তাঁরা মনে করছেন পাঁচ জোড়া ট্রেন থামতে পারলে বাকিগুলোও থামানো সম্ভব। শুধুমাত্র সদিচ্ছা থাকলেই ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে সব ট্রেনের যাত্রাবিরতি সম্ভব বলে মনে করেন এখানকার মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর থেকে রাত পর্যন্ত মোট চার জোড়া মেইল ও কমিউটার ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে যাত্রা বিরতি দেয়। এর মধ্যে রয়েছে, আখাউড়া-ঢাকা-আখাউড়া ও ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া পথে তিতাস কমিউটার (দুই জোড়া), ঢাকা-সিলেট ঢাকা পথের সুরমা মেইল, ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ পথের নাছিরাবাদ এক্সপ্রেস এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম পথের কর্ণফুলী এক্সপ্রেস। তিতাস কমিউটার ট্রেনকে ঘিরেই যাত্রীদের আগ্রহ ছিলো বেশি। ওই ট্রেনের নির্ধারিত সব আসন বিক্রি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা গত ২৬ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনটিতে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। হামলাকারীরা স্টেশনের কন্ট্রোল প্যানেল বোর্ডসহ মূল্যবান জিনিসপত্র আগুনে পুড়িয়ে দিলে পরদিন ২৭ মার্চ থেকে স্টেশনটিতে সব ধরনের ট্রেনের যাত্রা বিরতি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে। এখানকার যাত্রীরা বাধ্য হয়ে প্রায় ২০-৩০ কিলোমিটার দূরের আখাউড়া রেলওয়ে জংশন, আজমপুর, আশুগঞ্জ কিংবা কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব রেলওয়ে জংশন থেকে ট্রেনে চড়তেন।

এ অবস্থায় যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের যাত্রা বিরতির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সভাসহ আন্দোলনে নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। এসব কর্মসূচি থেকে ২০ জুনের মধ্যে ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা না করলে রেলপথ অবরোধের আল্টিমেটাম দেয়া হয়। গত ১৩ জুন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল সিগন্যালিং ব্যবস্থা পুন:স্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত স্টেশনটিকে ‘বি’গ্রেড থেকে ‘ডি’গ্রেডে রুপান্তর করে সনাতনি পদ্ধতিতে সীমিত সংখ্যক ট্রেনের যাত্রা বিরতির সিদ্ধান্ত নেয়।

ট্রেনের যাত্রাবিরতি বন্ধ থাকার আড়াই মাসে সরকার প্রায় আড়াই কোটি টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হয় বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ধারণা পাওয়া যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন থেকে প্রতিদিন ১২ জোড়া আন্ত:নগর ট্রেনসহ মেইল ও কমিউটার ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাগরিক ফোরামের সভাপতি পিযুষ কান্তি আচার্য্য এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে যদি পাঁচ জোড়া ট্রেন চালানো যায় তাহলে অবশিষ্ট ট্রেনগুলোও চালানো সম্ভব। তাই আমরা একই পদ্ধতিতে বাকি ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও স্টেশনের দ্রুত সংস্কার কাজের দাবি জানাই।'

একই দাবি জানিয়েছে সন্ত্রাস প্রতিরোধ মঞ্চ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংগঠক অ্যাডভোকেট মো. নাসির। তিনি বলেন, ‘ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে চলাচলকারী বিভিন্ন আন্ত:নগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি না হলে যাত্রীরা ট্রেন থামার সুফল পুরোপুরি ভোগ করতে পারবেন না। দ্রুত সংস্কার শেষে স্টেশনটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে সব ট্রেনের যাত্রাবিরতির দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।'

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ের স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ শোয়েব সাংবাদিকদেরকে জানান, হামলায় সিগন্যালিং ব্যবস্থা একেবারে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে গেছে। যে কারণে এখন পরিচালক (গার্ড) ও চালকের সমন্বয়ে ট্রেন থামানোর পর যাত্রী উঠানামা করছে।



সাতদিনের সেরা