kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

শেরপুরে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত

শেরপুর প্রতিনিধি   

১৪ জুন, ২০২১ ২২:০৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শেরপুরে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত

শেরপুর জেলায় সোমবার ২৫ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তার মধ্যে জেলা সদরে একদিনে সর্বোচ্চ ২৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে শেরপুর পৌর এলাকাতেই রয়েছেন ১৩ জন। সদর উপজেলায় আক্রান্তের হার ১৯ শতাংশ।

শেরপুরে জুন মাসে হঠাৎ করে ৪ জনের মৃত্যুসহ করোনার সংক্রমণ বেড়ে গেলে শেরপুর পৌর এলাকায় গত শুক্রবার ভোর থেকে ২ সপ্তাহের জন্য বিশেষ বিধিনিষেধ (লকডাউন) সহ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে জেলা প্রশাসন। তবে জেলা প্রশাসনের মাইকিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, স্বাস্থ্যবিভাগ এবং তথ্য অধিদপ্তরের সড়ক প্রচার চললেও বিধিনিষেধ মেনে চলতে সাধারণ মানুষের মাঝে উদাসিনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাইরে বের হওয়া বেশীরভাগ মানুষ মুখে মাস্ক পড়ছেন না, হাট-বাজারগুলোতেও লোকসমাগম আগের মতোই দেখা যাচ্ছে।

বিকেলে সিভিল সার্জন অফিসের দেওয়া তথ্য বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার জেলায় ১৩৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ওই ২৫ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তন্মধ্যে সদরে ২৩ জন, শ্রীবরদীতে ১ জন এবং নালিতাবাড়ী উপজেলায় ১ জন করে রয়েছেন। সব মিলিয়ে এ জেলায় মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৯০১। তন্মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৭৪০জন এবং মৃত্যু ঘটেছে ১৮ জন।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোবারক হোসেন জানান, সোমবার শেরপুর সদরে ২৩ জনের আক্রান্ত হওয়াটা একদিনে আক্রান্ত হওয়ার রেকর্ড। জুনের শুরু থেকে যেভাবে করোনার বিস্তার ঘটছে, তা খুবই উদ্বেগজনক। সবাইকে সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। নাহলে পরিস্থিতি সংকটময় হতে পারে।

শেরপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. খায়রুল কবীর সুমন জানিয়েছেন, সোমবার ৫২ জনের এন্টিজেন টেস্ট নমুনা পরীক্ষায় ১৭ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমন ধরা পড়েছে। তন্মধ্যে ১৩ জনই শেরপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা। ২৪ ঘন্টায় আক্রান্তের হার বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। রবিবার আক্রান্তের হার ছিল ১৮ দশমিক ০৬ শতাংশ। অথচ সোমবার সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৬৯ শতাংশে। করোনা টেস্টের পরিমাণ বেশী হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যাও বেশী ধরা পড়ছে।

এদিকে, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষার পদক্ষেপ দেওয়া হলেও শেরপুর তা হচ্ছে না। ভারতের মেঘালয় সীমান্তবর্তী জেলা হওয়া সত্ত্বেও শেরপুরে বিনামূল্যে কভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষ সেভাবে করোনা পরীক্ষা করাচ্ছে না। যে কারণে প্রকৃত সংক্রমণের সঠিক চিত্রও মিলছে না। চিকিৎসকদের ধারণা, ব্যাপকহারে এন্টিজেন টেস্ট করার ব্যবস্থা হলে শেরপুর জেলায় করোনায় আক্রান্তের হার আরো বাড়বে।

জেলা হাসপাতালের আরএমও ডা. খায়রুল কবীর সুমন এ বিষয়ে সিভিল সার্জনের বরাত দিয়ে জানান, দেশের ৪টি বিভাগের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগ অন্তর্ভূক্ত নয়। যে কারণে ময়মনসিংহ বিভাগের আওতাভূক্ত জেলাগুলোতে বিনামূল্যে করোনা টেস্টের কোনো সুযোগ নেই। তবে নাগরিক প্ল্যাটফরম জনউদ্যোগ কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ শেরপুর জেলাতেও অধিকহারে করোনা পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে এন্টিজেন্ট টেস্ট চালু করার দাবি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এতে সাধারণ মানুষ অধিকহারে নমুনা পরীক্ষা করতে আগ্রহী হবে। তাতে জেলায় করোনা সংক্রমণের প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে।

সিভিল সার্জন এ কে এম আনওয়ারুর রউফ বলেন, হাসপাতালে যেভাবে কভিড-১৯ আক্রান্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তাতে খুব শীঘ্রই নতুন ভবনের পুরোটাই কভিড রোগীদের জন্য ব্যবহার করতে হবে। সেক্ষেত্রে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান সংকুচিত হয়ে পড়বে। কাজেই এখনই সচেতন হতে হবে। সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখীর কারণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত ১১ জুন থেকে পৌর এলাকায় বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তাই করোনার বিস্তার রোধে জনসাধারণকে সচেতন হতে এবং মাস্ক ব্যবহারসহ যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে।



সাতদিনের সেরা