kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩০ জুলাই ২০২১। ১৯ জিলহজ ১৪৪২

একটি মসজিদকে ঘিরে মুগ্ধতার শেষ নেই দর্শনার্থীদের

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

১৪ জুন, ২০২১ ১৭:৩৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



একটি মসজিদকে ঘিরে মুগ্ধতার শেষ নেই দর্শনার্থীদের

অসাধারণ নির্মাণশৈলী, মসজিদের রং, লাইটিং ও এর অবস্থান মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের। নির্মাণের পর থেকে প্রতিদিনই মসজিদটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত থেকে অসাধারণ লাইটিংয়ে মসজিদের মোহনীয় সৌন্দর্যে মুগ্ধতার আবেশ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন তারা। এই মসজিদকে ঘিরে মুগ্ধতার শেষ নেই দর্শনার্থীদের আর স্থানীয়দের কাছে এই মসজিদ যেন এক গর্বের বিষয়!

দেশের আলোচিত পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়ের পাঁচ্চর-ভাঙ্গা অংশের দত্তপাড়া ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে নির্মিত এই মসজিদটি শুধু দর্শনার্থীদেরই নয়, সড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীদেরও মুগ্ধ করছে বারবার। কলেজের নামানুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কলেজ মসজিদ। দিনের আলোয় এক রকম সৌন্দর্য, সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহূর্তে এক রকম এবং রাতের অন্ধকার নামলে আরেক রকম সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। দর্শনার্থীদের কাছে ঠিক যেন এক তাজমহল!

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী পারিবারিকভাবে নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। মসজিদটি নির্মাণ করতে প্রায় তিন বছর সময় লেগেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শেষ হলে চলতি বছরের শুরু থেকেই মসজিদটি নামাজের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। মসজিদটির বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে এর নির্মাণশৈলী, গম্বুজের কারুকাজ, ভেতরের আট পাখা বিশিষ্ট বৈদ্যুতিক ফ্যান। চীন থেকে আনা ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের এই ফ্যান রয়েছে চারটি। যা পুরো মসজিদকে সার্বক্ষণিক শীতল রাখে। রয়েছে তুর্কি থেকে আনা ঝাড়বাতি। মসজিদটির মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত ২৫ ফুট উচ্চতা রয়েছে। মসজিদের চারপাশে বড় আকারের একাধিক জানালা থাকায় পর্যাপ্ত বাতাস প্রবেশ করতে পারে। ফলে ভেতরে সারাক্ষণ শীতলভাব বজায় থাকে। মসজিদে একজন ইমাম, একজন মুয়াজ্জিম ও ২ জন খাদেম রয়েছেন। ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কমিটি মসজিদের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।

শুক্রবার সরেজমিনে মসজিদ ঘুরে দেখা গেছে, জুমার নামাজ পড়তে বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ এসেছেন। এদিকে বিকেল থেকে মসজিদ প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীদের আগমনে মুখোর হয়ে ওঠে। মসজিদের সামনে ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায় তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়স্কদেরও। বাবা-মার হাত ধরে শিশুদেরও দেখা গেছে ছবি তুলতে। নামাজের সময় হলে দর্শনার্থীদের নামাজ আদায় করতেও দেখা গেছে। সন্ধ্যার পর মসজিদের লাইট জ্বালানো হলে অদ্ভুত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। সন্ধ্যার পর মসজিদ ও মহাসড়কে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। মূলত বিকেল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে মসজিদ প্রাঙ্গণে।

জানতে চাইলে গোপালগঞ্জ থেকে আসা আব্দুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ মসজিদটি দেখে চোখ আটকে যায়। বাসে এক মুহূর্তের জন্য দেখেছিলাম। এখন সময় নিয়ে দেখতে এসেছি।

গৌরনদী থেকে আসা আহসান বলেন, একদিকে দৃষ্টিনন্দন প্রশস্ত মহাসড়ক। তার ঠিক পাশেই দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। অসাধারণ সৌন্দর্য!

দত্তপাড়া টিএন একাডেমির সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব মিয়া বলেন, আমরা চিফ হুইপ মহোদয়ের কাছে একটি মসজিদ চেয়েছিলাম। তিনি এত চমৎকার করে একটি মসজিদ তৈরি করে দেবেন এমনটা ভাবনায় ছিল না। আমরা গর্বিত এবং আনন্দিত এ রকম চমৎকার নির্মাণশৈলীর মসজিদ পেয়ে।

মসজিদ নির্মাণকাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা পিটার খান বলেন, মসজিদটির অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- চিফ হুইপ মহোদয় নির্মাণশৈলী থেকে শুরু করে জানালার নেট পর্যন্ত নিজের পছন্দ অনুযায়ী করেছেন। মসজিদটির স্থাপত্য নকশা করেছেন কাজী মোহাম্মদ হানিফ। যিনি বায়তুল মোকাররমের এক্সটেনশনের ডিজাইনসহ দেশের অসংখ্য মসজিদের ডিজাইন করেছেন। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মসজিদটি প্রায় সাড়ে ১২ ফুট উচ্চতায় রয়েছে। এতে করে সড়ক থেকে মসজিদটি দেখতে চমৎকার লাগে।

মসজিদের নির্মাণ ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মসজিদ নির্মাণে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে তা আসলে জানা নেই। তা ছাড়া যারা অর্থায়ন করেছেন তারা বিষয়টি প্রকাশযোগ্য মনে করছেন না।

এদিকে স্থানীয়দের ধারণা, দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি তৈরিতে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

সকাল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে মসজিদের চারপাশ। একদিকে এক্সপ্রেসওয়ে, অন্যদিকে তার ঠিক সাথেই অনন্য নির্মাণশৈলীর মসজিদ নানা শ্রেণিপেশার মানুষের নজর কেড়েছে। দিনদিন মসজিদ ঘিরে বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়।



সাতদিনের সেরা