kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

আমরাইল ধামরাইয়ের একটি অবহেলিত গ্রামের নাম

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি    

১৪ জুন, ২০২১ ১২:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমরাইল ধামরাইয়ের একটি অবহেলিত গ্রামের নাম

ছবি: কালের কণ্ঠ

রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি উপজেলার নাম ধামরাই। এ উপজেলায় রয়েছে ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। গ্রাম রয়েছে ৪৬০টি। আমরাইল এর মধ্যে একটি অবহেলিত গ্রাম। উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নে এর অবস্থান।

আমরাইল গ্রামটি বেশ বড়। লোকসংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। দুইটি ওয়ার্ডে ভাগ হওয়া এ গ্রামে রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে গ্রামঘেঁষা আরেকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যা টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় অবস্থিত। রয়েছে একটি দাখিল মাদরাসা ও ছোট-বড় সাতটি মসজিদ। গ্রামে শিক্ষিত লোকের সংখ্যাও কম নেই। সামাজিকভাবে তাঁরা অনেকেই প্রতিষ্ঠিত। তাঁদের অনেকের রয়েছে ঢাকায় ব্যবসা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

গ্রামের বাড়িতে তাঁরা পাকা ভবনও করে রেখেছেন। কিন্তু গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রায় ২০টি ছোট-বড় কাঁচা সড়ক রয়েছে, তা পাকা করার ব্যাপারে কেউ এগিয়ে আসেননি। এমনকি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা সংসদ সদস্যও খোঁজ নেননি এসব সড়কের। সড়কগুলো মেরামত ও আপাতত ইটসলিং করে দেওয়ার দাবি গ্রামবাসীর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এ গ্রামের সামসুল আলম দুইবার চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। তিনি জীবিত থাকাকালে কাঁচা সড়কগুলো করে যান। এরপর কোনো জনপ্রতিনিধি সড়কগুলো পাকা করার উদ্যোগ নেননি। স্থানীয় ইউপি  চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজুকে অপসারণের পর  ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে গত সেপ্টেম্বর মাসে দায়িত্ব পান আইয়ূব আলী ইসাক। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাসের মধ্যে আমরাইল গ্রামে প্রায় আধা কিলোমিটার ইট সলিং ও কয়েকটি কাঁচা সড়ক মেরামত করেছেন।

গ্রামটি ধামরাই উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের এক প্রান্তে ও মির্জাপুরের সীমান্তবর্তী হওয়ায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে না এখানে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে গ্রামটির সড়কগুলো। গ্রামের ভেতর দিয়েই মির্জাপুরে যাওয়ার একটি রাস্তা রয়েছে। দুর্গম মেঠোপথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হোসেন বলেন, 'সামান্য বৃষ্টি হলেই কাঁচা সড়কে কোনো ভ্যান-রিকশা চলে না। আবার পায়ে হেঁটে যেতেও কষ্ট হয়।' তাঁর দাবি, গ্রামের চার থেকে পাঁচটি প্রধান সড়কে আপাতত ইটসলিং করে দিলেও চলাচলের সুবিধা হতো।

সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, 'আমাদের গ্রামের রাস্তা-ঘাটের স্বাধীনতার ৫০ বছরেও উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে এ গ্রামের সড়ক উন্নয়নের দাবি জানাচ্ছি।'

যাদবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আইয়ূব আলী ইসাক বলেন, 'আমরাইলের কয়েকটি রাস্তা পাকা করতে না পারলেও ইটসলিং করার চেষ্টায় আছি।'  



সাতদিনের সেরা