kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

প্রেম যখন যৌতুকের বলি!

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি   

১৩ জুন, ২০২১ ১৮:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রেম যখন যৌতুকের বলি!

হাতে মেহেদী, পায়ে আলতা আর বেনারশি শাড়ি পরে বধূ সেজে ছিলেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের পানবাড়ি গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে হাবিবা আক্তার সুমি (২০)। কিন্তু সুমির দরিদ্র বাবা যৌতুক দিতে পারেননি। তাই স্বামীর বাড়ি যাওয়া হলো না তাঁর। গত শুক্রবার (১১ জুন) এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের পানবাড়ি গ্রামে।

ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হওয়ায় ছেলের ধনাঢ্য পরিবার ভালোবেসে করা বিয়ে মেনে নেয়নি। তাই মেয়ের বাড়িতেই দীর্ঘ ৮ মাস ধরে সংসার। চলতি বছরের ২০ মে ছেলে একদিন নিজ বাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে ওঠে। পরে ছেলের যৌতুক লোভী পিতা ও পরিবারের কথায় পালিয়ে যায়। মারপিট, নির্যাতন করে বের করে দেওয়া হয় তরুণীকে। উপায় না পেয়ে ছেলের বাড়ির বারান্দায় বৃষ্টিতে ভিজে একদিন পড়ে থাকে দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হাবিবা আক্তার সুমি। পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে এলাকাবাসীর সালিস বৈঠকে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে ছেলের পরিবার। মেয়ের সুখের কথা ভেবে বসতভিটার ৭ শতাংশ জমি বিক্রি করে ছেলের বাবার হাতে দুই লাখ টাকা তুলে দেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দিতে পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত দেন। গত ১১ জুন শুক্রবার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। কিন্তু ছেলের বাবার দাবি করা পুরো টাকা না পাওয়ায় কনেকে নিতে আসেনি বরপক্ষের কেউ।

জানা গেছে, দরিদ্র পিতা হাবিবুর রহমানের মেয়ে হাবিবা আক্তার সুমির (২০) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন একই গ্রামের তোবারক হোসেন ওরফে নাড়িয়ার তৃতীয় ছেলে মহাসিন আলী (২৪)। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পালিয়ে বিয়ে করেন তারা। পরে ৫ লাখ টাকা দিলে মেয়েকে মেনে নেওয়ার প্রস্তাব দেয় বরের পরিবার। কনের পরিবার এতো টাকা দিতে সমর্থ না হওয়ায় কনেকে নিয়ে যায়নি বরপক্ষ। বর্তমানে দিশেহারা হয়ে বিভিন্ন জনের কাছে যাচ্ছেন হাবিবুর। এই ঘটনার পর গত শনিবার (১২ জুন) পাটগ্রাম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন হাবিবুর রহমান।

হাবিবা আক্তার সুমি বলেন, ছেলের পরিবার অনেক টাকা যৌতুক দাবি করে। সালিসি বৈঠকের গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ ২ লাখ টাকা দিতে বলে। বাবা জমি বিক্রি করে টাকা দেয় তাদেরকে (বরপক্ষ)। তারা টাকা নিয়ে আমার বিয়ের জন্য কোনো শাড়ি, চুরি বা একটি নাকফুলও কিনেনি। পরে আরো ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। আমার বাবা দিতে না পারায় বর মহাসিন ও তার পরিবার আমাকে নিতে আসেনি। এ অবস্থায় আমার জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।

কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক বলেন, আমরা খুব চেষ্টা করেছি। কিন্তু তোবারক হোসেন খুব ত্যাড়া লোক। পরবর্তীতে যৌতুকের টাকার জন্য মেয়েটিকে ঘরে তুলেনি।  

বরের পিতা তোবারক হোসেন বলেন, ‘মেয়েকে আনতে ৪ জনকে পাঠাইছিলাম। আমি আনতে যাব না। বাড়িতে উঠাবো না। টাকা পয়সার কোনো ঘটনা নাই।’ 

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত) হাফিজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল। বরপক্ষ বর্তমানে কনেকে নিবে বলে আমাদেরকে জানিয়েছে।’



সাতদিনের সেরা