kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

মাত্র ৬৬৮ মিটার সড়কের জন্য...

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি    

১৩ জুন, ২০২১ ১২:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাত্র ৬৬৮ মিটার সড়কের জন্য...

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল-সাগরদিঘী-ভরাডোবা সড়কের মাত্র ৬৬৮ মিটার সড়কের নির্মাণ কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় খানা-খন্দ ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বিকল হচ্ছে যানবাহন। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চারটি উপজেলার হাজারো মানুষের। বিঘ্ন ঘটছে যান যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনে। 

সরেজমিনে সাগরদিঘী বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘাটাইল-সাগরদিঘী-ভরাডোবা ও কাকরাইদ-সাগরদিঘী-সখিপুর-গোড়াই আঞ্চলিক সড়ক দুটির সংযোগস্থল হলো সাগরদিঘী বাজার। একটি সড়ক ভরাডোবায় গিয়ে গাজীপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যুক্ত হয়েছে। অপর সড়কটি সখিপুর হয়ে হাটুভাঙ্গা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সাথে যুক্ত হয়েছে। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, মধুপুর, সখিপুর ও ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কিছু অংশের উৎপাদিত আনারস, কাাঁঠালসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি এই সড়ক দুটি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু গত দেড় বছরেও মাত্র ৬৬৮ মিটার সড়কের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় খানা-খন্দক ও জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটুপানি জমে যায়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারনে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এলাকাবাসীর দাবি, বিভিন্ন সময় সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানালেও ভোগান্তি দূর করতে কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। 

সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ২৫ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ঘাটাইল-সাগরদিঘী সড়কের কামালপুর থেকে সাগরদিঘী হয়ে গুপ্তবৃন্দবন পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নকাজ চলছে। ইতিমধ্যে সড়কের প্রায় সম্পূর্ণ কাজ শেষ হলেও সাগরদিঘী বাজার এলাকায় ৬৬৮ মিটার সড়কের ঢালাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে।

সড়কের এ অংশটিতে সামন্য বৃষ্টি হলেই স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বড় বড় গর্তের কারণে সড়কটি যান চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। যার ফলে সাগরদিঘী-ঘাটাইল সড়ক, সাগরদিঘী -সখিপুর সড়ক, সাগরদিঘী-মধুপুর সড়ক এবং সাগরদিঘী-ভরাডোবা সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। যানজটের সৃষ্টি হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় কাটে মানুষের। এ অবস্থায় পাহাড়ি এলাকার কাঁঠাল, আনারসসহ নানা ফল ও সবজির মতো পচনশীল পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, সড়কের সামান্য কাজের জন্য ঘাটাইল, মধুপুর, সখিপুর ও ফুলবাড়িয়া উপজেলার লোকজনের পণ্য পরিবহন, যান চলাচল ও যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি জেলা সমন্ময় সভায় আলোচানা করা হয়েছে এবং টাঙ্গাইলের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয় অবগত করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। 

সড়কের নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়াজ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ফকরুদ্দিন বাচ্চু  বলেন, সড়কের যে অংশের কাজ বাকি আছে তা ঢালাইয়ের মাধ্যমে করতে হবে। এর জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ লাগবে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

টাঙ্গাইলের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলিউল হোসেন জানান, সাগরদিঘী বাজার এলাকায় নতুন করে ৬৬৮ মিটার সড়কের কাজ সিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে করার প্রস্তাব কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদনসাপেক্ষে অতিদ্রুত কাজটি শুরু করা যাবে বলে আশা করছি।



সাতদিনের সেরা