kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

চলনবিলে মা মাছ নিধনের মহোৎসব চলছে, প্রশাসনের নজর নেই

তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১২ জুন, ২০২১ ২১:৪৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চলনবিলে মা মাছ নিধনের মহোৎসব চলছে, প্রশাসনের নজর নেই

উজান থেকে গড়ে আসা ঢলের পানি আর বৃষ্টির কারণে চলনবিলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদী ও খালের পানি মিশেছে বিলের পানিতে। এ সময় মা মাছ ডিম ছাড়তে চলে আসে পানির কিনারে। এ সুযোগে জেলেরা মেতে উঠেছে মা মাছ নিধনের মহাউৎসবে। তারা বড়শি কোচ, জুতি, খড়াজাল, মইজাল, বাদাই জাল, কারেন্টজালসহ মাছ ধরার নানা উপকরন দিয়ে নির্বিচারে ডিমওয়ালা মাছ ধরছেন। আর এসব মা মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি হলেও স্থানীয় প্রশাসন নির্বিকার।

মৎস্য বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সাধারণত এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত মা মাছের ডিম ছাড়ার মৌসুম। এই সময়ের মধ্যে একেক মাছ একেকভাবে ডিম ছেড়ে থাকে। বিশেষ করে শোল, গজার, টাকি মাছ ডিম ছাড়ার পর পোনাগুলো ঝাঁক ধরে ভেসে বেড়ায়। বোয়াল মাছ ডিম ছাড়তে কম পানিতে আসে এবং পুরুষ বোয়াল মাছ মা মাছের পেট কামড়ে ডিম নি:সরণ করতে সাহায্য করে থাকে। এ কারণে এই পাঁচ মাস এসব মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

কিন্তু বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন চলনবিলের নয়টি উপজেলার কোথাও নেই। বরং প্রকাশ্যেই এসব ডিমওয়ালা মাছ বিক্রি হচ্ছে। কিনছে প্রশাসনের লোকজনসহ সর্বস্তরের মানুষ।

তাড়াশ উপজেলার হামকুড়িয়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন দলবেধে এ অঞ্চলের মানুষ, চলনবিলের খালে গিয়ে বড় বড় বোয়াল মাছ ধরছেন। একেকটা মাছের ওজন ৪ কেজি থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত । শনিবার সকালে হামকুড়িয়া গ্রামের শাহাদত হোসেন চার কেজি ওজনের বোয়াল মাছ ধরেছেন। বিক্রি হয়েছে সাত শ টাকা কেজি  দরে।

হামকুড়িয়া গ্রামের পশ্চিমপাড়ার মাছ শিকারী আব্দুল মালেক জানান, শনিবার সকালে তিনি ১০ কেজি ওজনের একটা ডিমওয়ালা বোয়াল মাছ ধরেছেন। পরে গ্রামেই ওই মাছ সাত শ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। তিনি মাছটি ধরেছিলেন হাটিকুমুরুল-বনপাড়া মহাসড়কের আট নং ব্রিজ এলাকায় চলনবিলের খালে।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. মশগুল আজাদ জানান, ডিমওয়ালা মাছ নিধনের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। বেড় জাল, সোঁতিজাল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কাল থেকে জন সচেতনতায় মাইকিং করা হবে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা