kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

প্রশ্ন এমপি মোকতাদিরের

'আইন আমার জন্য একরকম, বাবুনগরীর জন্য অন্যরকম?'

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১২ জুন, ২০২১ ১৮:৫৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'আইন আমার জন্য একরকম, বাবুনগরীর জন্য অন্যরকম?'

মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হয়েও বাবুনগরী হেফাজতের কমিটিতে স্থান পাওয়া, রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে তার বৈঠক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও গ্রেপ্তার না করার কঠোর সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত জি টিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বাবুনগরীকে 'ইডিয়ট' বলেও উল্লেখ করেন।

এমপি মোকতাদির চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখন তো মনে হচ্ছে আইন বৈষম্যমূলক হয়ে গেল। আমার জন্য একরকম, সাধারণ মানুষের জন্য একরকম ও বাবুনগরীর জন্য একরকম। কি একটা অদ্ভুত অবস্থা মধ্যে আমরা আছি। রাষ্ট্রের বড় বড় কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, আহমদ শফীর হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি বাবুনগরী। অথচ তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, এ রাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা থেকে ভিন্ন। বঙ্গবন্ধু ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর এখন রাষ্ট্র সাম্প্রদায়িকতাকে লালন করে। ধর্মনিরপেক্ষতাকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামির সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক ইউনিয়নের আহবায়ক মো. মনির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পৌর মেয়র নায়ার কবির, অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (সদর দপ্তর) মো. আবু সাঈদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত। অনুষ্ঠানে এমপি প্রায় আধাঘণ্টার মতো বক্তব্যের বেশির ভাগ সময়জুড়ে হেফাজত প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন।

এমপি এ সময় আরো বলেন, 'আইন যতক্ষণ পর্যন্ত সকলের জন্য সমানভাবে ব্যবহৃত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সভ্যতা বিপন্ন থাকবে। রাষ্ট্রের যতই উন্নতি হোক, এই উন্নতি একদিন মুছে যাবে। সভ্যতা খুঁজে পাওয়া যাবে না। পৃথিবীর যেসব জায়গায় সভ্যতা বিকাশ হয়েছে, সেখানে আইনের শাসন আছে'।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজত ইসলাম। এসব ঘটনায় ৫০০ জনের ওপর গ্রেপ্তার হলেও হেফাজত সভাপতি ও সম্পাদক এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমপি বাদী হয়ে ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে মামলা দিলেও নানা 'টালবাহানা'য় পুলিশ মামলা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ আছে।



সাতদিনের সেরা