kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে রাস্তা নির্মাণ, সংঘর্ষের আশঙ্কা

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১২ জুন, ২০২১ ১৪:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে রাস্তা নির্মাণ, সংঘর্ষের আশঙ্কা

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে রাস্তা নির্মাণের কাজ। আর এই রাস্তা নির্মাণের পক্ষে-বিপক্ষে দু’দল গ্রামবাসী বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তারা যেকোনো সময় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে এলাকাবাসী। 

জানা গেছে, উপজেলার রামশীল ইউনিয়নের জহরের কান্দি গ্রামের নরেশ বিশ্বাসের ব্রিজ থেকে জহরের কান্দি ছাত্রাবাস হয়ে কিশোর বিশ্বাসের বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় থেকে কাবিখার ১৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই রাস্তার নির্মাণকাজ শুরু হলে জমির মালিকরা বাধা প্রদান করেন। কিন্তু এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য জগনাথ বিশ্বাস জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করতে থাকেন। পরবর্তীতে জমির ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের মধ্যে থেকে স্বপন অধিকারী ও শিশির বিশ্বাস এই রাস্তা নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন। আদালত আবেদনকারীদের আবেদন মঞ্জুর করে রাস্তা নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। 

এদিকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইউপি সদস্য জগনাথ বিশ্বাস রাস্তার কাজ করতে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা পুনরায় বাধা প্রদান করেন। এ ঘটনায় জহরের কান্দি গ্রামের দু’দল গ্রামবাসীর মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারেন। 

এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক শিশির বিশ্বাস বলেন, একটি নির্জন স্থান দিয়ে ইউপি সদস্য জগনাথ বিশ্বাস তার নিজ স্বার্থে এই রাস্তাটি নির্মাণ করছেন। এই রাস্তা তৈরি করা হলে সরকারের শুধু অর্থই ব্যয় হবে। মানুষের কোনো কাজে আসবে না। তাই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা এই রাস্তা নির্মাণে বাধা প্রদান করেছি। আমাদের বাধা ও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ইউপি সদস্য জগনাথ বিশ্বাস কাজ করেছেন। এখন যদি এই রাস্তা নির্মাণ নিয়ে এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে তার জন্য জগনাথ বিশ্বাস দায়ী থাকবেন।

ইউপি সদস্য জগনাথ বিশ্বাস বলেন, যারা রাস্তার কাজে বাধা প্রদান করছেন, এখানে তাদের কোনো জমি নেই। এরা আমার বিরোধীপক্ষ। শুধু বিরোধীতার কারণে তারা এই উন্নয়ন কাজে বাধা প্রদান করছেন। যেহেতু বাধা প্রদানকারীদের জমি এখানে নেই, তাই আদালতের নির্দেশ অমান্য করার প্রশ্নেই ওঠে না। 

রামশীল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন বালা বলেন, এই প্রকল্প সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে আমি শুনেছি ইউপি সদস্য জগনাথ বিশ্বাস পূর্বে যে স্থান দিয়ে রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পটির প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেখান দিয়ে রাস্তার কাজ হচ্ছে না। আমি চাইবো এলাকার অধিকাংশ জনগণের মতামতের ভিত্তিতে যে স্থান দিয়ে প্রকল্পটির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল সেখান দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করা হোক। 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুর রহমান বলেন, এ ধরনের রাস্তা নির্মাণ করতে হলে জমির মালিকদের অনুমতি নিতে হয়। এক্ষেত্রে কোনো জমির মালিক যদি তাদের জমি না দিতে চান এবং বিজ্ঞ আদালত যদি নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন তাহলে আমরা কাজ বন্ধ করে দেবো।

কোটালীপাড়া থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এই রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলার যাতে বিঘ্ন না ঘটে তার জন্য কোটালীপাড়া থানা পুলিশ সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। এরপরও যদি কেই আইন অমান্য করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 



সাতদিনের সেরা