kalerkantho

রবিবার । ১০ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৫ জুলাই ২০২১। ১৪ জিলহজ ১৪৪২

গৃহবধূর পায়ে লেখা মৃত্যুর কারণ ও ৩ নাম!

অনলাইন ডেস্ক   

১১ জুন, ২০২১ ২১:০৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গৃহবধূর পায়ে লেখা মৃত্যুর কারণ ও ৩ নাম!

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় স্বামী, ভাসুর এবং জা’র নির্যাতনে টুম্পা অধিকারী নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আত্মহত্যার আগে পায়ে কলম দিয়ে মৃত্যুর জন্য তিনজনকে দায়ী করে তাদের নাম লিখে রাখেন। 

গত বুধবার (৯ জুন) বিকেলে টুম্পার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে, এ ঘটনায় বুধবার রাতে টুম্পার বোন কল্পনা অধিকারী বাদী হয়ে টুম্পার স্বামী স্বপন মন্ডল, ভাসুর বিবেক মন্ডল ও জা রীতা রানী মন্ডলকে আসামি করে আগৈলঝাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই রাতেই অভিযুক্ত স্বামী স্বপন মন্ডলকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বপনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। টুম্পার স্বামী গ্রেপ্তার স্বপন মন্ডল মাদারীপুর জেলার ডাসার থানার নবগ্রাম এলাকার প্রয়াত বঙ্কিম মন্ডলের ছেলে।

মামলা তদন্ত কর্মকর্তা আগৈলঝাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মিশু জানান, টুম্পার সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করার সময় হাটুর নিচের অংশের দু’পায়ে কলম দিয়ে তার মৃত্যুর কারণ ও মৃত্যুর জন্য দায়ী স্বামী স্বপন মন্ডল, ভাসুর বিবেক মন্ডল ও বিবেকের স্ত্রী রীতা মন্ডলের নাম লেখা দেখা যায়। এ ছাড়াও তার মায়ের শ্মশানের কাছে তার মরদেহ সৎকার করার কথা লেখেন তিনি।

আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ছরোয়ার জানান, ১১ বছর আগে পারিবারিকভাবে টুম্পার সঙ্গে স্বপনের বিয়ে হয়। শ্বশুর বাড়িরসহ অন্যান্যদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে টুম্পা তার স্বামীকে নিয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলার রামানন্দেরআক গ্রামে বাবার বাড়িতে থাকতেন। জমিজমা সহ পারিবারিক নানা বিষয়ে সুরহা করতে মঙ্গলবার সকালে টুম্পা তার শ্বশুরবাড়ি মাদারীপুরের নবগ্রাম এলাকায় যান। এ সময় ভাসুর বিবেক মন্ডল ও জা রীতা রানী মন্ডল তাকে অশ্রাব্য ভাষায় অপমান করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। স্বামী স্বপন মন্ডল এর প্রতিবাদ করেননি। 

আগে থেকে তিনি স্ত্রীর ওপর নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে টুম্পা ওই রাতেই বাবার বাড়ি ফিরে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন।

ওসি আরো বলেন, মামলার এক নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



সাতদিনের সেরা