ভারত থেকে জোরপূর্বক পুশ ইনের আশঙ্কা মোকাবেলায় হবিগঞ্জ সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। সীমান্তের ১৬টি বিওপি থেকে ২৪ ঘণ্টা টহল কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।
বিজিবি সূত্র জানায়, গত কয়েক দিন ধরে গভীর রাতেও সীমান্তবর্তী এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহজনক ব্যক্তি শনাক্তকরণ এবং দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।
বিজিবি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্তে পুশ ইনের ঘটনা নিয়ে সতর্কতা বৃদ্ধি করা হলেও এখন পর্যন্ত হবিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় জনগণ, গ্রাম পুলিশ ও আনসার-ভিডিপিকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে কড়া নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে থার্মাল ও ইনফ্রারেড ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
স্থানীয়রাও বিজিবির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী গুইবিল এলাকার বাসিন্দা করিম হোসেন বলেন, ‘রাতে বিজিবির মাইকিংয়ের কারণে আমরা আরো সচেতন হয়েছি। তারা রাত-দিন সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন, এতে আমরা নিরাপদ বোধ করছি।’
তেলিয়াপাড়া এলাকার চা বাগান কর্মী নৃপেন পাল বলেন, ‘উঠান বৈঠকে বিজিবি সদস্যরা আমাদের পুশ ইন সম্পর্কে বিস্তারিত বুঝিয়ে দিয়েছেন। সন্দেহজনক লোকজনকে কীভাবে শনাক্ত করতে হয় এবং দেশের স্বার্থে কীভাবে তথ্য দিতে হয়, সে বিষয়ে আমরা সচেতন হয়েছি।’
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক মো. তানজিলুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রতিটি বিওপিতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’
সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবির নজরদারি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।





