kalerkantho

শনিবার । ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১২ জুন ২০২১। ৩০ শাওয়াল ১৪৪২

গাড়াবাড়ি-সরিষাবাড়ি সড়ক

সিংড়ায় ১ যুগেও কাঁচা রাস্তার দুঃখ ঘোচেনি গ্রামবাসীর

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি   

৮ জুন, ২০২১ ১৮:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিংড়ায় ১ যুগেও কাঁচা রাস্তার দুঃখ ঘোচেনি গ্রামবাসীর

মাত্র ৫০০ মিটার রাস্তা পাকাকরণের অপেক্ষায় ১ যুগ ধরে দিন গুনছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার ২নং ডাহিয়া ইউনিয়নের গাড়াবাড়ি সরিষাবাড়ি গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ। গ্রামবাসীরা জানায়, ২০০৯ সালে বরেন্দ্রবহুমুখী প্রকল্পের আওতায় সিংড়া-বারুহাস মহাসড়কের বিয়াশ থেকে ১ কি.মি. রাস্তা পাকাকরণ করা হয় যা ওই দুটি গ্রামে প্রবেশ পথের ৫০০ মিটার দূরেই শেষ হয়। সেই থেকে ওই কাঁচা রাস্তা দিয়েই যাতায়ত করে আসছে গ্রামের সাধারণ মানুষ।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই বাকি ৫০০ মি. রাস্তা পাকাকরণের আশ্বাস পাওয়া গেলেও প্রায় ১ যুগ পরও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এভাবে অপেক্ষার দিন গুনছেন ওই গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে রাস্তার বেহাল চিত্র দেখা যায়। গাড়াবাড়ি গ্রামের জনপ্রতিনিধি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আকবর হোসেন বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই এই রাস্তার দুর্ভোগ বেড়ে যায়। ১ কিলোমিটার রাস্তা দিয়ে ভ্যানে চড়ে গ্রামের কাছে এসে পাকা রাস্তার মাথায় নেমেই শুরু হয় দুর্ভোগ। জুতা খুলে কাদা মাখা অবস্থায় বাড়ি ফিরতে হয়। কৃষিপণ্য সহ প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র কাঁধে বা কখনো মাথায় নিয়ে ফিরতে হয় বাড়িতে।

মোটরবাইক আরোহী মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা মোস্তাক বিন সুলতান বলেন, সামান্য এই কাঁচা রাস্তার জন্যই বর্ষার মৌসুমে আমরা মোটরবাইক চালাতে পারি না। আকাশে মেঘ দেখলেই হয় বাড়িতে না হয় বিয়াশ বাজারে মোটরবাইক রেখে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হয়।

গ্রামের সোহেল রানা, রফিকুল ইসলাম জানান, এই টুকু রাস্তা দুর্ভোগের কারণে আমাদের গ্রামে ধানের ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতিমণ ৫০ থেকে ১০০ টাকা কমে ধান বিক্রয় করতে হয়।

সরিষাবাড়ি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ২০১৬ সালে আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ উদ্বোধন করতে এসে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক মহোদয় এই রাস্তা পাকাকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।

২নং ডাহিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল মজিদ মামুন বলেন, গাড়াবাড়ি-সরিষাবাড়ি মূলত দুটি গ্রামে বসবাসরত অধিকাংশ মানুষ মুজিব আদর্শের। অনেকের কাছে তাই গ্রাম দুটি মুজিব নগর হিসাবেও পরিচিত। দেশের এই উন্নয়ন লগ্নে মুজিব আদর্শের গ্রাম দুটি মাত্র ৫০০ মি.  রাস্তা পাকাকরণের অভাবে আজ সবার কাছে অবহেলিত। আমি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণের দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাসান আলী বলেন, চলনবিল প্রকল্পের মাধ্যমে এই রাস্তার তালিকা পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে রাস্তার কাজ শুরু করা হবে।



সাতদিনের সেরা