kalerkantho

মঙ্গলবার । ১ আষাঢ় ১৪২৮। ১৫ জুন ২০২১। ৩ জিলকদ ১৪৪২

ঈশ্বরদীতে সাত মেম্বারের সংবাদ সম্মেলন

ইউপি চেয়ারম্যান-সচিবের স্বেচ্ছাচারিতা, শাস্তিসহ অপসারণ দাবি

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

৭ জুন, ২০২১ ১৮:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউপি চেয়ারম্যান-সচিবের স্বেচ্ছাচারিতা, শাস্তিসহ অপসারণ দাবি

পাবনা আটঘরিয়ার ৫নং লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ার ও সচিব আ. রাজ্জাক পরস্পর যোগসাজসে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি, মেম্বারদের স্বাক্ষর জাল করে সরকারি অর্থ আত্মসাত করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদে অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছেন। সরকারের অভূতপূর্ব উন্নয়ন সুবিধা ভোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে লক্ষীপুর ইউনিয়নবাসী। আর জনরোষানলে পড়ছেন ইউপি মেম্বাররা।

দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান ও সচিবের শাস্তিসহ দ্রুত অপসারণ দাবিতে গতকাল রবিবার রাতে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন লক্ষীপুর ইউপির সাত মেম্বার।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকারী মেম্বাররা হলেন লক্ষিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার শাহিন হোসেন, ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল লতিফ, ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার আশরাফ সরদার, ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার হেলাল উদ্দিন, ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার রফিকুল ইসলাম, সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার শাহানা খাতুন এবং ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার আলেয়া খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ও সংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উপস্থিত মেম্বাররা অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ার ইউপি সচিব আ. রাজ্জাক পরস্পর যোগসাজসে বিগত ৫৪ মাস মেম্বারদের সন্মানীভাতার টাকা প্রদান করেননি। বিগত দুই বছর ধরে মেম্বারদের নিয়ে কোনো মিটিং হয়নি। অথচ চেয়ারম্যান ও সচিব মেম্বারদের সিল বানিয়ে স্বাক্ষর জাল করে এলজি এসপি, টিআর, কাবিখা, কাবিটাসহ সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত করেছেন।

তারা আরো বলেন, প্রতি বছর ইউনিয়ন পরিষদে ট্যাক্স (কর) বাবদ ৬/৭ লাখ টাকা আদায় হয়। কিন্তু এই টাকার কোনো হিসেবে নেই। চলমান ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে কোনো কাজ না করে চেয়ারম্যান নিজের তিনজন পছন্দের মেম্বারকে সঙ্গে সমুদয় টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন। মেম্বাররা ঘুষ না দিলে চেয়ারম্যান ও সচিব তাদের কোনো প্রকল্প দেন না।

চেয়ারম্যান ও সচিবের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের কারণে সরকারের অভূতপূর্ব উন্নয়ন থেকে লক্ষীপুর ইউনিয়নবাদী বঞ্চিত হয়েছে দাবি করে মেম্বাররা বলেন, চেয়ারম্যান ভিজিটি, ভিজিএফ, বয়স্কভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা কার্ড বাবদ ব্যক্তি বিশেষে ২ থেকে ৫ হাজার করে টাকা নিয়েছেন।

অভিযোগকারীরা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ঈদুল ফিতরের আগে করোনাকালীন সময়ে ৫০০ জনের প্রতিজনকে ৫০০ করে টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু সেই টাকা বিতরণ করা হয়নি। তাই চেয়ারম্যান ও সচিবের নানা রকম অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত শাস্তিসহ অপসারণের দাবিতে পাবনা জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুর রাজ্জাক মুঠোফোনে মেম্বারদের করা অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে কালের কণ্ঠকে বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব ওই ৭ মেম্বারকে চলমান ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে কাজ দেয়নি বলে আমাকে জড়িয়ে এসব অপ্রচার চালাচ্ছেন। যা করা হয়েছে তা সঠিক নিয়ম মেনেই করা হয়েছে বলেও দাবি করেন সচিব।

আটঘরিয়ার ৫নং লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ার মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, মেম্বারদের সকল অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। আমার প্রতিদ্বন্দ্বীদের পক্ষ হয়ে এই সাত মেম্বার কাজ করছেন। আমাকে ব্যর্থ ও দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। যাতে আগামীতে আমি চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন না পায়।



সাতদিনের সেরা