kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

করোনায় মোংলায় ইউপি নির্বাচন চায় না সাধারণ মানুষ

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

৬ জুন, ২০২১ ১৩:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় মোংলায় ইউপি নির্বাচন চায় না সাধারণ মানুষ

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে বাগেরহাটের মোংলায় কঠোর বিধি-নিষেধ চলছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে দ্বিতীয়বারের মতো আরো সাত দিনের বিধি-নিষেধ জারি করতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আগামী ২১ জুন ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণায় সাধারণ ভোটাররা চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা বলছেন, করোনার ভয়াবহতার মধ্যে এখনই নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করা হলে মহামারির সংক্রমণ ঘরে ঘরে ছড়িয়ে যাবে। 

তবে উপজেলা প্রশাসনও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে মত প্রকাশ করে এই সময়ে নির্বাচন করতে নারাজ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদার বলেন, মোংলায় করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকারে ছড়িয়েছে। সংক্রমণটির ভাইরাস হ্রাস করতে আমরা সাধারণ মানুষদের সচেতন করতে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছি। তাই এর মধ্যে একটা নির্বাচন হলে সেটি হবে খুবই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি। তাই এই আশঙ্কার কথাটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। মহামারির মধ্যে নির্বাচন যাতে না করা হয়, খুব শিগগিরই এর একটা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলেও আশা করেন ইউএনও কমলেশ মজুমদার। 

ভৌগোলিক আর অর্থনৈতিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোংলা বন্দর। একটি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় বসবাস প্রায় দুই লাখ মানুষের। ঘনবসতিপূর্ণ এ উপজেলায় ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছে দেশের বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ। উপজেলাটি এখন করোনা হটস্পটে পরিণত হয়েছে। পরীক্ষণ বিবেচনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত ৭৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। করোনার সংক্রম ঠেকাতে এখানে চলছে কঠোর বিধি-নিষেধ। উপজেলার বাসিন্দারা অনেকটা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে আগামী ২১ জুন ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণা করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখো দিয়েছে। 

উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আব্দুল মজিদ, মো. খোকন ও আলমগীর হোসেন বলেন, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে একদিকে কঠোর বিধি-নিষেধ আবার একই সময়ে নির্বাচন। এটা তো মরণ ডেকে আনা। উপজেলার আরেক ইউনিয়ন চিলার বাসিন্দা কুলসুম বেগম ও জাহানারা খানম বলেন, করোনার মধ্যে কিভাবে নির্বাচন হয়? এতে আরো বেশি করোনা হবে। এই সময়ে নির্বাচনের দরকার নেই বলেও জানান তারা। 

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের মোংলা উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক মো. নুর আলম শেখ বলেন, ইউনিয়ন নির্বাচন হচ্ছে একটা উৎসব, এই নির্বাচনে চায়ের দোকানে, মাঠেঘাটে সবাই গায়ে গায়ে মিশে একাকার হয়ে যাবে। করোনার সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে মোংলায় নির্বাচন দেওয়া হলে যে ভয়াবহ অবস্থা দেখা দেবে, তা মোকাবেলা করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না বলেও জানান তিনি। 

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণের খবরে কিছুটা প্রচার-প্রচারণার প্রস্তুতি নেন প্রার্থীরা। এরই মধ্যে তাই ১০ জুন পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়। এমন তথ্য জানিয়ে মোংলার ইউএনও কমলেশ মজুমদার বলেন, করোনার এই ভয়াবহ অবস্থায় নির্বাচন স্থগিত রাখতে সরকারের উচ্চপর্যায়ে তিনি চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেন।  

মোংলা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে আছেন। তাই এখানে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা। ইউনিয়ন ছয়টিতে নারী ও পুরুষ মিলে মোট ভোটার রয়েছেন ৭৯ হাজার ৫৪০ জন।



সাতদিনের সেরা