kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

কবর খুঁড়ে হাড় চুরি, পুলিশ আসছে শুনে কবিরাজ দম্পতির পলায়ন

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

৪ জুন, ২০২১ ২২:৩৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কবর খুঁড়ে হাড় চুরি, পুলিশ আসছে শুনে কবিরাজ দম্পতির পলায়ন

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এক কবিরাজ দম্পতির বিরুদ্ধে পুরোনো কবর খুঁড়ে মরদেহের হাড় চুরি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ওসমানগড় গ্রামে একটি কবর ভেঙে মরদেহের হাড় নেওয়ার সময় গ্রামবাসীরা দেখে ফেলেন। 

শুক্রবার (৪ জুন) গ্রামবাসী পুলিশকে জানালে পুলিশ আসার খবর শুনে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় কবিরাজ দম্পতি। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের উসমানগড় গ্রামে।

স্থানীয় গ্রামবাসী জানান, ওসমানগড় গ্রামের  গোলাপ মিয়া (৬৫) ও তার স্ত্রী মায়া বেগম (৫৭) গ্রাম্য কবিরাজ দম্পত্তি হিসাবে পরিচিত। বাড়ির পাশে লাল শাহের মাজার ও গ্রাম্য কবরস্থান রয়েছে। ওই কবরস্থান থেকে বৃহস্পতিবার রাতে গোলাপ মিয়ার ভাই রকিব মিয়ার দেড় বছরের পুরানো একটি কবর ভেঙে মরদেহের হাড় নেওয়ার চেষ্টা করেন কবিরাজ দম্পত্তি।

কবিরাজ দম্পতি এ কবরের ওপরাংশের মাটি সরিয়ে বাঁশও তুলে ফেলেন। বিষয়টি গ্রামের কয়েকজন দেখে ফেলেন। তাই গ্রামবাসী কয়েকজন সারা রাত কবর পাহারা দেন। শুক্রবার সকালে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুর রহমান গাজী ও এএসআই এনামুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ আসার খবর শুনে প্রতারক কবিরাজ দম্পতি বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এদিকে এ ঘটনায় আব্দুল মতিন বাদি হয়ে শুক্রবার বিকেলে কমলগঞ্জ থানায় কবিরাজ দম্পতির ওপর একটি অভিযোগ করেছেন।

উসমানগড় গ্রামবাসী জানান, গোলাপ মিয়া ও তার স্ত্রী মায়া বেগম মিলে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে টুনকা, কুফরি ও কবিরাজি করছেন। তারা সুযোগ বুঝে পুরাতন কবর ভেঙে কবর থেকে হাড় এনে কবিরাজির কাজে ব্যবহার করেন। এছাড়া পুরাতন কবরের ভেতরে তাবিজ পুতে রাখেন। গ্রাম্য কবরস্থানের পুরাতন কবর ভাঙা দেখলে এটি শিয়ালে ভেঙে ফেলেছে বলেও অপপ্রচার চালায় ওই কবিরাজ দম্পতি। বাড়িতে না থাকায় কবিরাজ গোলাপ মিয়া বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আব্দুর রহমান গাজী অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তারা ঘটনাস্থলে যাবার আগেই ভণ্ড কবিরাজ দম্পতি পালিয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, মতিন মিয়া কমলগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ করছেন। 

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াদৌস হাসান বলেন, অভিযোগকারী থানায় আসলেও এখন পর্যন্ত তার হাতে অভিযোগ পৌঁছেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তক্রমে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সাতদিনের সেরা