kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের নিরাপত্তায় আনসার মোতায়েনের আবেদন প্রবর্তক সংঘের

অনলাইন ডেস্ক   

৪ জুন, ২০২১ ১৮:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের নিরাপত্তায় আনসার মোতায়েনের আবেদন প্রবর্তক সংঘের

২০০৪ সালে চট্টগ্রাম পাঁচলাইশ থানাধীন প্রবর্তক পাহাড়ে প্রবর্তক সংঘের ১৮ গণ্ডা জায়গা ব্যবহার করে ইসকন ও প্রবর্তক সংঘ সমন্বিতভাবে শ্রীকৃষ্ণ মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। কিন্তু গত সতেরো বছরে ইসকন চুক্তি ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ করেছে প্রবর্তক সংঘ।

এ অবস্থায় প্রবর্তক সংঘ ইসকনের হাত থেকে রক্ষা পেতে ও প্রবর্তকের আবাসিক হোটেল, ভাড়াটিয়াদের বসবাসের গৃহাদি, প্রতিষ্ঠান এবং প্রবর্তকের লোকজনের নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষার স্বার্থে গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে সশস্ত্র আনসার মোতায়েনের জন্য আবেদন করেছে। জেলা প্রশাসকও প্রবর্তক সংঘের  নিরাপত্তাহীনতা অনুধাবন করে অতিশিগগিরই আনসার মোতায়েনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন বলে জানা যায়। তাই ধারণা করা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহেই ১২-১৫ সদস্যের একটি আনসার দল প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরে মোতায়েন করা হচ্ছে।

ইসকন ও প্রবর্তক সংঘের দ্বন্দ্বটি প্রকাশ্যে আসে মূলত ১২ মার্চের ঘটনার পর থেকে। গত ১২ মার্চ প্রবর্তক সংঘের সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তীর নেতৃত্বে মন্দিরে প্রবেশমুখের নিরাপত্তা চৌকি অপসারণের সময় ইসকনের সাধুবেশী সদস্যরা প্রবর্তক সংঘের ১২জন কর্মচারীকের ব্যাপক মারধর করে যাদের মধ্যে নয়জন দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিল। কিন্তু ঘটনার পরবর্তী সময় ইসকন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার, সংবাদ সম্মেলন, উচ্চপদস্থ ইসকন অনুসারীদের ক্ষমতা প্রদর্শন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও সারাদেশের ইসকন অনুসারীদের মাধ্যমে সনাতনী হিন্দুদের মনে প্রবর্তক সংঘের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি  তৈরি করে।

প্রবর্তক সংঘ জানিয়েছে, তারা ১২ মার্চ ইসকনের  হামলা পরবর্তী সময়ে নিজেদের আত্মরক্ষার্থে স্থানীয় থানা ও চট্টগ্রাম জেলা আদালতে মামলা দায়ের, সংবাদ সম্মেলন ও মতবিনিময় সভা করেছে যা ইসকনকে আরও ক্ষেপিয়ে তুলেছে। যার ফলে ইসকন স্থানীয় থানার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই প্রবর্তক পাহাড়ে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, বৃক্ষ কর্তন এমনকি দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মন্দিরের উদ্বোধন করে। যেখানে চুক্তি অনুযায়ী মন্দিরের মালিক (প্রবর্তক সংঘ) মন্দির উদ্বোধনের সময় উপস্থিত থাকাতো দুরের কথা কোনো নিমন্ত্রণই পায়নি।

প্রবর্তক সংঘ বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে, চুক্তির প্রায় বেশিরভাগ শর্তই ভঙ্গ করেছে ইসকন। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ গন্ডা জায়গা ব্যবহারের কথা থাকলেও ইসকন তার দ্বিগুন জায়গা জোর করে দখলে নিয়েছে। মন্দিরের নাম প্রবর্তক শ্রী কৃষ্ণ মন্দির রাখার বিষয়ে চুক্তি হলেও ইসকন প্রবর্তকের মতামতের কোনো তোয়াক্কা না করে মন্দিরের নাম রেখেছে ইসকন প্রবর্তক মন্দির। মন্দির পরিচালনায় উভয় পক্ষের আনুপাতিক হারে লোক রাখার চুক্তি হলেও প্রবর্তকের সদস্যরা মন্দির কমপেস্নক্সের ভিতরে প্রবেশের অনুমতিই পায় না বরং হুমকি-ধমকির শিকার হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।



সাতদিনের সেরা