kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

রায়গঞ্জে দলছুট বিপন্ন প্রজাতির মুখপোড়া হনুমান লোকালয়ে

তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২ জুন, ২০২১ ২১:৫৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রায়গঞ্জে দলছুট বিপন্ন প্রজাতির মুখপোড়া হনুমান লোকালয়ে

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অতি বিপন্ন প্রজাতির দলছুট মুখপোড়া একটি হনুমান পক্ষকাল ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হনুমানটিকে একনজর দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করছেন। খাবার দিলে হনুমানটি মাটিতে নেমে আসে, আবার জনতার ভিড় দেখলে এক গাছ থেকে আরেক গাছে, এক ছাদ থেকে আরেক ছাদে ছুটে বেড়ায়।

আজ বুধবার হনুমানটিকে রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে দেখা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হনুমানটিকে বিরক্ত না করার জন্য বলা হয়েছে।

মুখপোড়া হনুমান (Langur) প্রাইমেট (Primates) বর্গের অন্তর্গত লম্বা লেজযুক্ত বানর। মুখপোড়া হনুমানের বৈজ্ঞানিক নাম Semnopithescus entellus| একে উত্তুরে হনুমান, সাধারণ হনুমান, ধূসর হনুমান, মুখপোড়া হনুমান ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়।

এদের দেহের রঙ ফ্যাকাশে কমলা এবং নিচের দিকে কিছুটা হালকা। মাটিতে থাকা অবস্থায় এরা সাধারণত লেজ বাঁকিয়ে শরীরের ওপর দিকে রাখে। প্রাপ্তবয়স্কদের ভ্রুর পেছনে ললাটের ওপর চুল বিদ্যমান। মাথার দৈর্ঘ ৫১ থেকে ১০৮ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। এবং লেজ ৭২-১১৯ সেন্টিমিটার লম্বা হয়।

পুরুষ ও স্ত্রী হনুমানের ওজন যথাক্রমে ৯-২১ কেজি ও ৮-১৮ কেজি হয়ে থাকে। প্রতিটি দলে ৮ থেকে ২৫টি সদস্য দেখা যায়। উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, বাংলাদেশে এরা অতিবিপন্ন প্রজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

দলছুট হনুমান প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে, রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, এসব হনুমান প্রাকৃতিক সম্পদ। নির্বিচারে বন ধ্বংসের কারণে খাদ্য ও আবাসিক সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও মানব বসতির কারণে এরা পথভ্রষ্ট হয়ে লোকালয়ে চলে আসে। এদের প্রধান খাদ্য গাছের কচি পাতা। এরা ফল খেয়ে বীজের বিস্তার করে থাকে। যা থেকে বন তৈরি হয়।

তিনি বলেন, উৎসুক জনতার কাছে তার পরামর্শ, হনুমানটিকে খাদ্য নয় বরং সহনশীল আচরণ করুন। খাদ্য দিলে সে তার আচরণ পরিবর্তন করবে। বিরক্ত না করলে সেও মানুষকে আক্রমণ করবে না। এবং স্বাভাবিকভাবেই সে একদিন তার দলের কাছে ফিরে যাবে।



সাতদিনের সেরা