kalerkantho

বুধবার । ২ আষাঢ় ১৪২৮। ১৬ জুন ২০২১। ৪ জিলকদ ১৪৪২

আলফাডাঙ্গায় জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে কলেজছাত্রের ওপর হামলা

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি   

২ জুন, ২০২১ ১৯:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আলফাডাঙ্গায় জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে কলেজছাত্রের ওপর হামলা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এক পুলিশের এএসআই ও সাবেক সেনাসদস্যের হামলায় কলেজ শিক্ষার্থী মো. জনি শিকদার (২৮) নামে তাদের এক ভাতিজাসহ পরিবারের চারজন আহতের ঘটনা ঘটেছে। জনি শিকদার মারাত্মক আহত হয়ে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি ফরিদুপর রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যাল কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

গত ৩০ মে রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বানা ইউনিয়নের টোনাপাড়া গ্রামে দুই পরিবারের মধ্যে জমিজমা নিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই কলেজ শিক্ষার্থীর বড় ভাই মো. জুয়েল সিকদার বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান শিকদারসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। 

থানা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের টোনাপাড়া গ্রামের নাদের সিকদারের ছেলে এএসআই মতিয়ার রহমান শিকদার (৫৭) ও সাবেক সেনাসদস্য আহাদুজ্জামান হাসুর (৫০) সাথে একই গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমান শিকদারের ছেলেদের সাথে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। জুয়েল সিকদারের বাবার পৈত্তিক জমিতে ঘর তুলতে বাড়িতে ইট, বালি-সিমেন্ট আনায় কথাকাটাকাটির জের ধরে গত ৩০ মে রাত সাড়ে ৭টার দিকে পূর্বশত্রুতায় হামলা চালায় মতিয়ার রহমান শিকদার ও সাবেক সেনাসদস্য আসাদুজ্জামান গং। হামলায় কলেজ ছাত্র জনি শিকদার (২৮), জুয়েল শিকদার (৩৮), আনিস শিকদার (৩৪) ও বেলায়েত শিকদার (৪২) আহত হয়। মারাত্মক আহত অবস্থায় জনি শিকদার ও জুয়েল শিকদারকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে গুরুতর আহত জনি শিকদারকে রাতেই ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

জুয়েল শিকদারের বিধবা মা রহিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী ৩২ বছর আগে মারা গেছে। তার মৃত্যুর পর থেকেই আমার দেবররা অত্যাচার শুরু করেন। ২০১১ সালে আগে একবার বাড়িতে ঘর করার জন্য বালু আনায় তখনও তারা আমার পরিবারের উপর হামলা চালায়। ঘর করতেও দেয় না, জমাজমি ভাগ করে করেও দিতে চায় না। কিছু জমি জোর করে তারা রেকর্ড করেও নিয়েছে। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বোয়ালমারীতে বাসা ভাড়া করে থাকি। ছেলেরা বাপের ভিটায় ঘর তুলতে ইট, বালু আনলে গত ৩০ মে রাতে মতিয়ারগং আমার পরিবারের ওপর রামদা, রড, লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। আমি হামলাকারীদের উপযুক্ত বিচার চাই।

মামলার বাদী মো. জুয়েল শিকদার বলেন, আমার চাচা বোয়ালমারী থানা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসে কথাকাটাকাটির মাঝে ঘর থেকে রামদা এনে মাথায় ও বাম হাতে কোপ দেয়। অন্যরা এলোপাতাড়ি মারধর করে আমাদের। পাশের গ্রামে চাচার স্বশুরবাড়ি থাকায় তার শ্যালক লিয়াকতকে দিয়ে আমাকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে। লিয়াকত পুলিশের এসআই।

হামলার কথা অস্বীকার করে এএসআই মো. মতিয়ার রহমান শিকদার বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। আমার ভাইয়ের ছেলেরা যে অভিযোগ করেছে তা সঠিক নয়। আমি ওই দিন বাড়িতে যাইনি এবং এর সাথে আমি জড়িত নই।

বুধবার বিকেলে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অপরাধী পুলিশের লোক হলেও সে ছাড় পাবে না। আসামিদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে। 



সাতদিনের সেরা