kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

বগুড়ায় পেঁয়াজের দাম দুই সপ্তাহে দ্বিগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

২ জুন, ২০২১ ১৬:৪৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বগুড়ায় পেঁয়াজের দাম দুই সপ্তাহে দ্বিগুণ

মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও বগুড়ার বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল ৩০/৩২ টাকা কেজি। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে সেই পোঁজ এখন ৬০ টাকা কেজি। দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শিগগিরই আমদানি না হলে ৭ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকায় পৌঁছে যেতে পারে।

জেলা বাজার মনিটরিং সূত্র বলছে, পেঁয়াজের দাম বাড়ার মূল কারণ আমদানি না হওয়া। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় পাবনা জেলার সদর, সুজানগর, বেড়া, কাশিনাথপুর উপজেলায়। এ ছাড়া নাটোর, কুষ্টিয়া ও রাজশাহী জেলায় পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। তবে এতে দেশের মোট চাহিদা পূরণ হয় না। দেশের পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। এ ছাড়া মিয়ানমার, চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। তবে দেশে আমদানি হওয়া পেঁয়াজের প্রায় ৯৫ শতাংশ ভারত থেকে আনা হয়। গত ৩০ এপ্রিলের পর দেশে আর পেঁয়াজ আমদানি করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি।

বগুড়া শহরের নাটাইপাড়া বৌ বাজারের কাঁচামালের দোকানি আব্দুল মান্নান বলেন, ঈদের পর থেকে আড়তে গিয়ে ৩০ টাকায় পেঁয়াজ কিনে ৩৫ টাকায় বিক্রি করতাম। বুধবার সকালে ৫৫ টাকায় পেঁয়াজ কিনতে হয়েছে তাই ৫ টাকা লাভে ৬০ টাকায় বিক্রি করছি। বগুড়ার বকশীবাজার, ফতেহ আলী বাজার, কালিতলা ও খান্দার বাজারসহ ছোটবড় সবগুলো বাজারেই বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। খুচরা দোকানিদের বক্তব্য সামনে পেঁয়াজের দাম আরো বাড়বে।

বগুড়ার রাজাবাজার পাইকারি আড়তে গিয়ে দেখা গেছে, আড়তে পেঁয়াজের বিশাল স্তূপ জমে আছে। অথচ আমদানি নেই, সরবরাহ কম, আবহাওয়া খারাপ ইত্যাদি অজুহাতে বাড়ানো হয়েছে পেঁয়াজের দাম।

সুনিল নামের একজন ব্যবসায়ী জানালেন, কাঁচামালের দর ওঠা-নামা তো করবেই। তাছাড়া সামনে কোরবানির ঈদ। পেঁয়াজ মশল্লার দামতো একটু বাড়তেই পারে।

তবে ক্রেতাদের বক্তব্য প্রতিদিন পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে সিন্ডিকেটের কারসাজি। তাদের দাবি প্রশাসন পাইকারি গোডাউনে কি পরিমাণে পেঁয়াজের মজুদ আছে দেখতে পারে। একই সাথে পাইকাররা সেগুলো কবে কার কাছ থেকে কত টাকায় কিনেছে। আমদানি মূল্য কত টাকা পড়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, আড়তে পেঁয়াজ আসার পর তিন স্তর পর ভোক্তাদের হাতে পৌঁছায়। বুধবার আড়ৎ থেকে পাইকাররা কিনেছেন প্রতি কেজি ৫৪-৫৫ টাকা দরে, পাইকাররা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন ৫৭-৫৮ টাকা দরে এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করেছেন ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে।

বাজারে কথা হয় বেশ কয়েকজন সাধারণ ক্রেতার সঙ্গে। তারা প্রত্যকে ৫ থেকে ১০ কেজি করে পেঁয়াজ কিনেছেন। এত পেঁয়াজ কেনার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, গত সপ্তাহে পেঁয়াজ কিনেছি ৫০ টাকা কেজি করে। আজ পেঁয়াজ কিনতে হলো ৬৫ টাকা কেজি করে। দোকানদার বলছেন, আগামী সপ্তাহে ১০০ টাকা কেজি দাম হতে পারে। তাই এক মাসের জন্য বেশি করে পেঁয়াজ কিনেছি।

বগুড়া জেলা বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, দেশে যে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় তা দিয়ে দেশের মানুষের চাহিদা মেটানো সম্ভব হয় না। এ কারণে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। আমদানি করা ১০০ শতাংশের প্রায় ৯৫ শতাংশ পেঁয়াজ ভারত থেকে করা হয়। ভারত থেকে সর্বশেষ দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে এপ্রিলের শেষে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে পরবর্তীতে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। আর এই কারণে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আমদানি পুনরায় শুরু হলে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি।



সাতদিনের সেরা