kalerkantho

বুধবার । ২ আষাঢ় ১৪২৮। ১৬ জুন ২০২১। ৪ জিলকদ ১৪৪২

অভিনব কায়দার ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়, চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

রংপুর অফিস    

২ জুন, ২০২১ ১০:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অভিনব কায়দার ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়, চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

আরিফ হোসেন বুড়িমারী স্থলবন্দরের এক পাথর ব্যবসায়ী।গত ২১ এপ্রিল দুই ট্রাক পাথরের অর্ডার আসে আরিফের কাছে। মোস্তাফিজুর রহমান চঞ্চল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্ডার পেয়ে রংপুরে আসেন ওই ব্যবসায়ী।

ক্রেতা মোস্তাফিজুর রহমান চঞ্চল ওই পাথরের মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা পরিশোধও করেন আরিফ হোসেনকে। একপর্যায়ে পাথর ব্যবসায়ীকে ব্যবসার স্বার্থে ওই এলাকায় বাসা ভাড়া নেওয়ার প্রস্তাব দেন চঞ্চল। এতে রাজি হন পাথর ব্যবসায়ী। ওই রাতেই নগরীর কেল্লাবন্দ সরদারপাড়া এলাকার একটি বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে আরিফকে তুলে দেন চঞ্চল। আরিফ তখনো বুঝতে পারেননি কী ঘটতে যাচ্ছে।

রাত সাড়ে ১০টার দিকের ঘটনা। একজন অপরিচিত নারীকে নিয়ে ওই পাথর ব্যবসায়ীর ভাড়া বাসায় প্রবেশ করেন চঞ্চল। তার কিছুক্ষণ পর সংঘবদ্ধ চক্রের কয়েকজন সদস্য ব্যবসায়ীর ভাড়া বাসায় প্রবেশ করেন। তারা অস্ত্রের মুখে আরিফকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই নারীর সঙ্গে অশ্লীল ভিডিও ও ছবি ধারণ করেন।

গত রবিবার ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় চাঁদা দাবি, প্রতারণা ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) স্ব-উদ্যোগে মামলাটি গ্রহণ করে। পিবিআইর ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের সার্বিক নির্দেশনায় রংপুর পিবিআইর পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেনের নেতৃত্বে এসআই নূরে আলম ওই দিনই আসামি প্রতারক চক্রের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চঞ্চলকে (৩২) নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড় থেকে গ্রেপ্তার করেন। এ ছাড়া মুকসেনুল আরেফিন রুবেল (৪৯) নামের আরো সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয় রাধাবল্লভ এলাকা থেকে।

পিবিআই সূত্র জানায়, আসামিরা এ সময় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহণ করে পাথর বিক্রির গচ্ছিত প্রায় দুই লাখ টাকা কেড়ে নেন। পরে  আসামি চঞ্চল বিষয়টি সুরাহা করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। এ ছাড়া তিনি নিজেও পরিস্থিতির শিকার মর্মে ব্যবসায়ীর কাছে অভিনয় করেন এবং সুষ্ঠু সুরাহার স্বার্থে আরো ৬ ট্রাক পাথর অথবা ৭ লাখ টাকা রংপুরে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। অন্যথায় নারীর সঙ্গে তোলা অশ্লীল ছবি ও ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

গ্রেপ্তার আসামিরা স্বীকার করেন, তারা প্রায়ই রংপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ীদের বিভিন্নভাবে ফাঁদে ফেলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন।

রংপুর পিবিআইর পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন এবং অজ্ঞাত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ রকম সংঘবদ্ধ ঘৃণ্য অপরাধ তদন্তে পিবিআই রংপুর সর্বোচ্চ আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে। ঘটনার বিষয়ে ওই নারী গত সোমবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।



সাতদিনের সেরা