kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

সালথায় পাউবোর খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

৩১ মে, ২০২১ ১৯:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সালথায় পাউবোর খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় দুটি খাল পুনঃখননে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। খননযন্ত্র (এস্কেবেটর) দিয়ে খালের মাটি কেটে পাশের কৃষকের ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে। এতে পাটসহ অন্য ফসলের ক্ষতি হচ্ছে বলে স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেছেন।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ওই উপজেলায় খরা মৌসুমে খালে পানি সংরক্ষণ ও কৃষি জমিতে সেচের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের অধীনে গত এপ্রিল মাস থেকে ওই খাল দুটিতে খনন কাজ শুরু হয়।

খাল দুটি হচ্ছে, উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের সিংহপ্রতাপ গ্রাম থেকে বুড়ি নদী থেকে বাইনাখালী পর্যন্ত এক হাজার ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট রাজাবাড়ী খাল ও উপজেলার মোড়হাট গ্রামের কুমার নদ থেকে দীঘির বিল পর্যন্ত এক হাজার ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্য কেষ্টখালী খাল। এ খনন কাজের ঠিকাদার হলেন কুমিল্লা জেলার মেসার্স সারা এন্টারপ্রাইজ।

ওই দুটি খালের পুনঃখনন কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৩ লাখ ৬২ হাজার ৪০২ টাকা। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি ৪১ শতাংশ ছাড়ে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৮১৮ টাকায় নিয়েছে। এ বছরের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি শেষ করার নির্ধারিত সময় থাকলেও আজ সোমবার পর্যন্ত কাজটির ৭০ ভাগ কাজ হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওই কাজের তদারকিতে নিয়োজিত পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অতনু প্রামাণিক।

এদিকে গট্টি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলু জানান, রাজাখালী ও কেষ্টখালী খালে দুটি খনন যন্ত্র দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। ওই কাজ তদারকিতে পাউবোর কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে দেখা যায় নি। তিনি বলেন, খালের ওপরের দিকের প্রস্থ  ৪৪ থেকে ৪৫ ফুট করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। কোথাও ২৫ বা কোথাও ৩৫ ফুট  কাটা হচ্ছে। আবার নিচের দিকে অর্থাৎ তলার দিকে ১৩ থেকে ১৬ ফুট কাটার কথা থাকলেও কাটা হচ্ছে ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত। ওই খাল দুটির গভীরতা তিন ফুট থেকে আট ফুট করে কাটার করার কথা থাকলেও কাটা হচ্ছে ২ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত।

ওই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে জানান, দায়সারা গোছের কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। আর মাটি কেটে পাশের কৃষকের পাট ক্ষেত, বেগুন ক্ষেত ও মরিচ ক্ষেতে ফেলা হচ্ছে। এতে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।

গট্টি ইউনিয়নের কাউলিকান্দা গ্রামের ইলিয়াস হোসেন জানান, কেষ্টখালী খালের পাড়ে স্থানীয় কৃষকদের ২০ বিঘা ফসলি জমি আছে। এর মধ্যে ১০ বিঘার জমির পাট খালের কাটা মাটির কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ইউএনও’র  কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে সিংহপ্রতাপ গ্রামের কৃষক রহিম শেখ জানান, রাজাবাড়ী খালের কাটা মাটির ফেলার কারণে আমার ১৪ কাঠা জমির বেগুন নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ওই এলাকায় প্রায় আট বিঘা জমির বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। 

খান খনন কাজের ঠিকাদার জাকির হোসেন বলেন, খালের গভীরতা সিডিউল অনুয়ায়ী শতভাগ কাটা হয়েছে। তবে কোথাও কোথাও ব্যক্তি মালিকানা জমি থাকায় চওড়া কম হয়েছে। তিনি বলেন, এ কাজে তদারকি করতে ওয়াটার বোর্ড টাস্ক ফোর্স রয়েছে। শতভাগ কাজ করলেও আমাকে ৯৫ ভাগ বিল দেবে। 

খালের মাটি কেটে ফসলি জমিতে রাখায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খালের কাটা মাটি রাখায় ফসলের ক্ষতি হওয়ায় কিছু করার নেই। কারণ এ খাতে কোনো টাকা বরাদ্দ নেই। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অতনু প্রামানিক জানান, তদারকি কাজে আমাদেও কোনো অলসতা নেই।

অভিযোগটি ঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি সিডিউল অনুযায়ী শতভাগ কাজ করছে। তিনি বলেন, খালের মাটি কেটে পাশের জমিতেই রাখা হবে। মাটি কম হওয়ায় আমরা ওই জমি ইউএনওকে দিয়ে ইজারা নেইনি। 



সাতদিনের সেরা