kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

খাবার পানির উৎসকে বাঁচাতে বাঁধ সংস্কারে নারীরা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

২৯ মে, ২০২১ ২৩:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খাবার পানির উৎসকে বাঁচাতে বাঁধ সংস্কারে নারীরা

চারিদিকে এতো পানি অথচ খাবার জন্য এক ফোটা পানি কোথাও নেই। সম্প্রতি ঝড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে সয়লাব হয়ে যায় গোটা এলাকা। নদীর নোনা পানিতে নষ্ট হয়ে যায় খাবার পানির উৎস মিষ্টি পানির বেশির ভাগ পুকুর।

ভেঙে যাওয়া বাঁধ দিয়ে এখনো জোয়ারের পানি আসা-যাওয়া করছে। এই পনিতে যাতে বাকি পুকুরগুলোতে নোনা পানি প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য সুপেয় পানির পুকুরগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি। আর পানিসহ পুকুর সংরক্ষণে নিজ দায়িত্বে এগিয়ে এসেছে ভাঙন কবলিত উপকূলের নারীরা।

আজ শনিবার খাবার পানির উৎসকে বাঁচাতে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ওয়াপদা স্লুইচ গেটের ৩০ ফুট বাঁধ সংস্কার করেছে এলাকার নারীরা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিন্দু নারী উন্নয়ন সংগঠনের ৩৫ জন নারী সদস্য এই বাঁধ সংস্কারের কাজ করেন।

বাধে কর্মরত নারীরা জানায়, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সাতক্ষীরার বিভিন্ন অঞ্চলের বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে নদীর লোনা পানি প্রবেশ করে। যার কারণে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের পুকুরে লোনা পানি প্রবেশ করে পানি খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে গেছে। এরই মধ্যে কালিগঞ্জের স্লুইচ গেটের পাশে প্রায় ৩০ ফুট জায়গায় ভাঙন ধরেছে। সেটি পুরো ভেঙে গেলে তলিয়ে যাবে উপজেলার ৭টি গ্রাম।

এছাড়া তলিয়ে যাবে ২০ হাজার মানুষের একমাত্র পানির উৎস ওয়াবদা পুকুর। গ্রামবাসীরা জানায়, শুষ্ক মৌসুমের এই সময়ে পুকুরের পানি শুকিয়ে যায়। যার ফলে সদরের কয়েকটি গ্রামে সুপেয় পানির সংকট দেখা দেয়। তবে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তাতে খাবার মতো সামান্য পানি সঞ্চয় হয়েছে।

নারীরা মনে করেন এই পুকুরে যদি নোনা পানি প্রবেশ করে তাহলে জীবনে দুর্বিষসহ বিপদ নেমে আসবে। বেদানার রসের দামে পানি কিনে খেতে হবে। কারণ এই পুকুর ছাড়া কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো খাওয়ার পানির পুকুর নেই। তাই তারা পানির উৎসকে বাঁচাতে মাঠে নেমেছে।

নারী উন্নয়ন সংগঠন বিন্দুর সভাপতি জাকিয়া রাজিয়া বলেন, আমরা যারা কাজ করছি তারা কোনো দিন মাটি কাটার কাজ করিনি। পানির উৎসকে বাঁচাতে ঘরে বসে  থাকতে পারলাম না। এটি সংস্কার না করলে বাঁধ ভেঙে বহু গ্রাম ভেসে যেত।

সংগঠনের পরিচালক জান্নাতুল মাওয়া বলেন, আমরা এক রকম নিরুপায় হয়ে রাস্তায় নেমেছি। আমরা কাজ করে এটা সংস্কার করেছি। আসলে বড় বড় ভাঙনের কারণে এটিকে কেউ গুরুত্ব দেইনি। পুরো ভেঙে গেলে তার পর হাহাকার করত। যেহেতু কেউ  এগিয়ে আসেনি এখনো পর্যন্ত তাই আমরাই নেমে পড়েছি।

উল্লেখ্য, সংগঠনটি একটি যুব নারী বাদি সংগঠন। গত এক যুগের বেশি সময় ধরে সাতক্ষীরার দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করছে। প্রতি সপ্তাহে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে আন্দোলন করছে সংগঠনটি।



সাতদিনের সেরা