kalerkantho

বুধবার । ২ আষাঢ় ১৪২৮। ১৬ জুন ২০২১। ৪ জিলকদ ১৪৪২

বিজয়নগরে সরকারি জমিতে ঘর তুলছেন প্রবাসী

‘আফনে কেডা, ফোন না দিয়া ফেস টু ফেস কতা কন’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২৯ মে, ২০২১ ০১:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘আফনে কেডা, ফোন না দিয়া ফেস টু ফেস কতা কন’

‘আফনে কেডা। আফনে কি আমার আত্মীয়। আফনে আমারে ফোন দেন কেরে। ফোন না দিয়া ফেস টু ফেস কতা কন। আফনে আমার লগে কতা না কইয়া ইউএনও’র লগে কতা কন। আমি ইউএনও’র লগে বুজুম। আফনে আমারে আর ফোন দিয়েন না। 

আফনে ফোন দেঅনের উদ্দিশ্য কিতা। আমি দোকান করলে আফনের সমস্যা কিতা’।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এ প্রতিবেদককে এভাবেই বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার নুরপুর গ্রামের মো. আল-আমীন। সম্প্রতি প্রবাস থেকে ফেরা ওই ব্যক্তি সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণ করার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি জানতে ফোন করলে এভাবেই তিনি কথা বলেন।

আল-আমীনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার বিজয়নগর থানায় অভিযোগ করেছেন নূরপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা রাসেল মাহমুদ। সরকারি জায়গায় ঘর নির্মাণে বাধা দিতে গেলে কর্তব্য কাজের বাধা দানের অভিযোগ এনে তিনি লিখিত দেন।

বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, ভূমি কর্মকর্তার দায়ের করা সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগটি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চম্পকনগর বাজারে পুরাতন ৩৩৩ দাগ ও নতুন ১৪৫-৪৬ দাগের খাস খতিয়ানের জায়গায় দোকান নির্মাণ শুরু করেন আল-আমীন। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টরা দোকান নির্মাণ না করার জন্য আল-আমীনকে অনুরোধ করেন। কিন্তু এতে কর্ণপাত না করে তিনি দোকান নির্মাণ অব্যাহত রাখেন। এমনকি নানাভাবে হুমকি-ধামকিও দিতে থাকেন। জায়গাটিতে আধা পাকা ঘর নির্মাণ এখনো অব্যাহত আছে।

বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বছর পাঁচেক আগেও ওই জায়গাটিতে এক ব্যক্তি ঘর তুলতে চায়। এ সময় প্রশাসনের বাধায় সেটি সম্ভব হয় নি। এখন আল-আমিন জোর করেই সেখানে ঘর তুলছেন। এখানে ঘর উঠলে আশেপাশের আরো সরকারি খালি জায়গায়ও দখলের সম্ভাবনা দেখা দেবে।’

চম্পকনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হামিদুল হক বলেন, ‘বাজার কমিটির লোকজন বলেছেন জায়গাটি সরকারের। জায়গাটি নিয়ে বাজার কমিটির সঙ্গে মামলা ছিলো যা সরকার জিতেছে। যারা ঘর তুলছে তাদেরকে বলেছি যদি কাগজপত্র থাকে তাহলে যেন ইউএনওকে দেখিয়ে কাজ করে। কিন্তু তারা সেটি করেনি। ঘর তোলা এখনো অব্যাহত রেখেছে।’

এদিকে প্রথমবার ফোন রেখে দেওয়ার পর এ প্রতিবেদকের কাছে নিজে থেকেই কল করেন আল-আমীন। এ সময় নিজেকে কাউছার পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি জানান, এ জায়গাটির কাগজপত্র তাদের আছে। কাগজমূলেই সেখানে ঘর তোলা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।



সাতদিনের সেরা