kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

বামনায় বেড়িবাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, তলিয়ে গেছে জমি-বসতঘর

বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২৬ মে, ২০২১ ১৮:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বামনায় বেড়িবাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, তলিয়ে গেছে জমি-বসতঘর

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ আঘাত হেনেছে উপকূলে। ‘ইয়াস’ এর কারণে বাতাসের তীব্র গতি না থাকলেও বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ৪-৫ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। পানির স্রোতের তীব্রতা ও টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় বরগুনার বামনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও মাছের ঘের। অনেক এলাকায় বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা শতশত পরিবার এখন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

আজ বুধবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিষখালী নদীতীরবর্তী চেঁচান এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নবনির্মিত ৪০০ মিটার বেড়িবাঁধটি প্রায় ৫০ ফুট জায়গায় মাটি না ফেলায় ওই জায়গা দিয়ে বিষখালী নদীর পানি প্রবেশ করে তলিয়ে গেছে চেঁচান, বেবাজিয়াখালী, কাটাখালী, ঢুসখালী ও কালিকাবাড়ি এলকা। এ ছাড়া উপজেলার জাফ্রাখালী গ্রামের পানি উন্নয়নবোর্ডের ২০ মিটার এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে মঙ্গলবার রাত থেকে খালের পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে ছোনবুনিয়া, জাফ্রাখালী, কালাইয়া, তালেশ্বর বুকাবুনিয়া এলাকার ফসলি জমি ও বসতঘর। এদিকে নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দক্ষিণ রামনা গ্রামের বেড়িবাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করে লোকালয়ে।

উপজেলার সবচেয়ে দুর্যোগ প্রবণ এলাকা ডৌয়াতলা ইউনিয়নের দক্ষিণগুদিকাটা গ্রামের বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা ২০০ পরিবার প্রতিদিন দুবার জোয়ারে তলিয়ে যায়। ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারে বিষখালীর পানি ৩-৪ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হওয়ায় ওই এলাকাটি বর্তমানে রয়েছে পানির নিচে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পূর্বেই এখানের বাসিন্দারা গবাদিপশু, বৃদ্ধ, শিশু ও নারীদেরকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে পার্শ্ববর্তী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে।

বরগুনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বামনা উপজেলায় ৫২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ কিলোমিটার কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব বাঁধগুলো সংস্কারের জন্য প্রাক্কলন পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরগুনা পানিউন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে বিভিন্ন এলাকার বেরিবাঁধ ভেঙে ও উপচে নদীর পানি প্রবেশ করায় তলিয়ে গেছে উপজেলার হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও মাছের ঘের। ফলে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে উপজেলার কৃষি ও মৎস্য সেক্টর।

বামনা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ৫ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান, ১৫০ হেক্টর জমির মুগডাল, ১০০ হেক্টর জমির মরিচ, ও ১৫৫ হেক্টর জমির গ্রীষ্মকালীন সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়াও প্রায় ৪ হেক্টর জমির পানের বরজ, ৩০ হেক্টর জমির কলা ক্ষেত এখন পানির নিচে রয়েছে।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে উপজেলার ৪টি উইনিয়নের বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে ৫০০ মাছের ঘের তলিয়ে গেছে।

জাফ্রাখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. মহিবুল্লাহ বলেন, গত রাতে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি কৃষি জমিতে প্রবেশ করে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত পানি ফসলি জমি ও লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় আমাদের এ অঞ্চলসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের ধানের বীজ ও মাছের ঘের এখন পানির নিচে রয়েছে। দ্রুত বাঁধটি না আটকালে বসত ঘরেও লোকজন থাকতে পারবে না।

বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিবেক সরকার বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। যেসকল এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে সেসব এলাকার বাঁধগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে টেলিফোনে জানানো হয়েছে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করার খবর আমরা পেয়েছি। ঘূর্ণিঝড়ে দুর্গত মানুষের জন্য নগদ অর্থসহ আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য মজুদ আছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আমরা দাঁড়াব। 



সাতদিনের সেরা