kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

সন্দ্বীপে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি, ভেসে গেছে ফসল-মাছ

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৬ মে, ২০২১ ১৮:১২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সন্দ্বীপে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি, ভেসে গেছে ফসল-মাছ

ঘূর্ণিঝড় 'ইয়াস'র প্রভাবে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে বেড়িবাঁধ ভেঙে সাগরের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে প্রবল জোয়ারে সন্দ্বীপের সারিকাইতের ৬নং ওয়ার্ডের একটি দুর্বল স্পটে ভাঙা বাঁধ দিয়ে ও আরো ২/৩টি স্পটে বেড়িবাঁধ উপচে জোয়ারের লোনা পানি প্রবেশ করেছে। জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ এলাকার প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারের চাষাবাদের জমির ফসল, পুকুরের মাছ ও খামারের হাঁস-মুরগি ভেসে গেছে। হঠাৎ জোয়ারের তাণ্ডব দেখে বেড়িবাঁধ এলাকার মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়।

এলাকাবাসী জানায়, ৩নং সতর্ক সংকেতের কারণে রেডক্রিসেন্ট বা অন্যান্য সংস্থা খুব বেশী গুরুত্ব দিয়ে প্রচার-প্রচারণা না করায়  লোকজন 'ইয়াস' ঘূর্ণিঝড়ে খুব বেশী আতংকিত ছিল না। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচিত ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেকসই বাঁধের কাজ সম্পন্ন না করায় এ দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

সারিকাইত ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম পনির অভিযোগ করে বলেন,ডলি কনস্ট্রাকশন কাজ নিয়ে তালবাহানা করায় সাধারণ জনগণ এ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। সাগরের লোনাজলে অনেক মানুষ তাদের সহায় সম্পদ হারিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্কে পানি উন্নয়ন বোর্ড গতকাল তড়িঘড়ি করে বাঁধটি অস্থায়ীভাবে মেরামত করে, মাটি কম্পাকশান না হওয়ায় এটি ভেঙে গেছে।

স্থানীয় জেলে মঙ্গল জলদাস জানান, সঠিক সময়ে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় জোয়ারের পানিতে এলাকার ফসলের জমি নষ্ট হয়েছে, পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

প্রতিবন্ধী আজিজ জানান, সাগরের পানিতে তার ফার্মের হাঁস-মুরগিগুলো ভেসে গেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, রাতের জোয়ারের আতঙ্কে আছেন সাধারণ মানুষ। বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান বলেন, আমি বাঁধের অবস্থা দেখে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছি। দ্রুত তারা সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরহাদ হোসেন বলেন, বেড়িবাঁধের যে অংশ ভেঙে গেছে আমরা আজ রাতের মধ্যে তা সংস্কার করে দেব। ডলি কন্সট্রাকশনের কাজের অবহেলার কারণে আজ এ অবস্থা। বর্তমানে কাজটি সম্পন্ন করতে বিশ্বাস বিল্ডার্সকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তারা কাজটি স্থায়ীভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।



সাতদিনের সেরা