kalerkantho

মঙ্গলবার । ১ আষাঢ় ১৪২৮। ১৫ জুন ২০২১। ৩ জিলকদ ১৪৪২

ময়মনসিংহ নগরীতে পথের আতঙ্ক অটোরিকশা-মিশুক-ইজিবাইক

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ    

২৬ মে, ২০২১ ১৫:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ময়মনসিংহ নগরীতে পথের আতঙ্ক অটোরিকশা-মিশুক-ইজিবাইক

কি পায়ে হেঁটে অথবা বাহনে চড়ে, কোনোটিতেই এখন আর শান্তি পান না ময়মনসিংহ নগরবাসী। চালকদের বেপরোয়াগতিতে চলাচলের জন্য এখন নগরীতে আতঙ্কের বাহন হয়ে দাড়িয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, মিশুক আর ইজিবাইকগুলো। এ বাহনগুলোর চালকদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় এরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। এসব বাহনের কারণে নগরীতে পথচারীরাও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। আবার বাহনে বসে থাকা যাত্রীরাও অনেক সময় দুর্ঘটনায় পড়ছেন। কোনো সচেতন নাগরিক কখনো এদের সাবধানে অথবা ধীরে চলাচলের অনুরোধ করলে উল্টো আরো অপমানিত হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান ময়মনসিংহ নগরীর প্রধান সড়ক এবং অন্য সড়কগুলো এমনিতেই বেশ সরু। এসব সড়কে পথচারীরা স্বস্তিতে হাঁটতে পারেন না। বর্তমানে ব্যাটারিচালিত রিকশা, মিশুক আর ইজিবাইকগুলো একে অপরকে ওভারটেক করতে গিয়ে অনেক সময় পথচারীদের ধাক্কা দিচ্ছে। ধাক্কা দিয়ে আবার বেপরোয়াগতিতে চলেও যাচ্ছে। এসব নিয়ে এ নগরীতে ভাববারও কেউ নেই। বলারও কেউ নেই। আবার অনেক সময় কিছুটা ফাঁকা সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা, মিশুক আর ইজিবাইকগুলো ঝড়ের গতিতে ছুটে চলে। আবার ঝোড়োগতির মাঝে হঠাৎ ব্রেক কষতে গিয়ে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এভাবে অনেক যাত্রী আহত হন। প্রায়দিনই নগরীর কোনো না-কোনো স্থানে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। 

আজ বুধবারও নগরীর রামকৃষ্ণ রোড এলাকায় পথচারী শামছুল হক নামে এক বৃদ্ধকে একটি মিশুক ধাক্কা দিয়ে আহত করে চলে যায়। একাধিক ব্যক্তি বলেন, এসব বাহনে এখন উঠতেও ভয় লাগে। আবার এদের কারণে রাস্তা দিয়ে হাঁটতেও ভয় লাগে। বেপরোয়াগতির এসব বাহনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান একাধিক নাগরিক।

ময়মনসিংহের ট্রাফিক পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান এব্যাপারে বলেন, এসব চালকদের প্রশিক্ষণ নেই। যানবাহন চালানোর বিষয়ে এদের মাঝে কোনো সচেতনতাও নেই। তিনি বলেন, এসব চালকদের সচেতনতা সৃষ্টির বিষয়ে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলবেন।

একই বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সচিব রাজীব কুমার সরকারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, গত মার্চ মাসেও তারা নগরীর যানবাহন, যানজট, দুর্ঘটনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পরিবহন মালিক, শ্রমিক, পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে একটি সমন্বয় সভা করেছিলেন। কিছু সিদ্ধান্ত সেই সভাতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনা সসমস্যা বেড়ে যাওয়া সেই সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন আপাতত স্থগিত আছে। সংকট কেটে গেলেই তারা সমস্যা সমাধানে সেই উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়ন শুরু করবেন। 



সাতদিনের সেরা