kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

শখের মোটরসাইকেলে প্রাণ গেল ছাত্রলীগ নেতার

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি    

২৬ মে, ২০২১ ১৩:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শখের মোটরসাইকেলে প্রাণ গেল ছাত্রলীগ নেতার

ছাত্রলীগ নেতা শামীম আহমেদ

দরিদ্র পরিবারের সন্তান শামীম আহমেদ (২৩)। দিনমজুর পিতা আব্দুল মতিন কোনরকমে দুই সন্তানের পড়াশোনা ও সংসার খরচ চালিয়ে নিচ্ছিলেন। পরিবারের এমন নাজুক অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যেও শামীম নবম শ্রেণিতে পড়াশোনার সময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। শামীম স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। কিছুদিন আগে শামীমের ছোট ভাই সেনাবাহিনীর চাকরি পান। এতে পরিবারটি অর্থনৈতিক সচ্ছলতার মুখ দেখতে শুরু করেন। এ অবস্থায় স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শামীম দিনমজুর বাবার কাছে বায়না ধরে একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য। সন্তানের পীড়াপীড়িতে গত ২৮ শে মার্চ বাবা দেড় লাখ টাকা দিয়ে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেন। সেই শখের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দীর্ঘ ১১ দিন রাজশাহীর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আজ বুধবার শামীম মারা যান। 

শামীম পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের সরদার পাড়া মহল্লার আব্দুল মতিনের ছেলে ও ভাঙ্গুড়া পৌর  ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। তিনি ভাঙ্গুড়া সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করতেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঈদের পরদিন শামীম মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে ভাঙ্গুড়া যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। পৌর শহরের সরদারপাড়া মোড়ে অপরদিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ মারাত্মকভাবে আহত হন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। কিন্তু অবস্থা সংকটাপন্ন হাওয়ায় তাকে রাজশাহীর বেসরকারি সিডিএম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মাথায় গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা। সেখানে ৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরেও জ্ঞান ফেরেনি শামীমের। এই ৮ দিনে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার দেনা করে টাকার যোগান দেন তার পরিবার। সেখানকার চিকিৎসকরা শামীমকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলেছিলেন। কিন্তু পরিবারের পক্ষে আর টাকার যোগান দেওয়া সম্ভব ছিল না। তাই নিরুপায় হয়ে গত রবিবার শামীমকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরে আজ বুধবার সকালে মারা যাযন।

চিকিৎসকের উদ্ধৃতি দিয়ে স্বামীর পরিবারের সদস্যরা জানায়, দুর্ঘটনায় শামীমের মাথার খুলির একপাশে ভেঙে ১২ টুকরো হয়। এসব টুকরো মাথার মগজের মধ্যে আটকে ছিল। চিকিৎসক অস্ত্রোপচার করে সাতটি টুকরো বের করতে সক্ষম হয়। এরপর থেকেই মৃত্যুর সময় পর্যন্ত শামীম জ্ঞানহীন ছিল। 

শামীমের নিকটাত্মীয় মাহমুদুল হাসান জুয়েল বলেন, শামীমের বাবা আব্দুল মতিন দরিদ্র দিনমজুর। খুব কষ্টে তিনি দুই সন্তানকে পড়াশোনা করিয়েছেন। কিছুদিন আগের ছোট ছেলে সেনাবাহিনীর চাকরি পাওয়া যায় পরিবারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আসে। সব সময় তিনি বলতেন ছেলেরা বড় হলেই সব কষ্ট চলে যাবে। কিন্তু তার বড় ছেলে তাকে কষ্ট দিয়ে পরপারে চলে গেলো। 

ভাঙ্গুড়া পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি প্রভাষক হেলাল উদ্দিন খান বলেন, শামীমের মৃত্যুতে পৌর ও উপজেলা ছাত্রলীগ গভীরভাবে শোকাহত। ছাত্রলীগ চেষ্টা করবে শামীমের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে।



সাতদিনের সেরা