kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

চন্দ্রগ্রহণ ও ইয়াস আতঙ্কে বরগুনার উপকূলীয় জনপদ

পৌরসভাসহ উপজেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২৬ মে, ২০২১ ১২:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চন্দ্রগ্রহণ ও ইয়াস আতঙ্কে বরগুনার উপকূলীয় জনপদ

আজ বুধবার সন্ধ্যায় চন্দ্রগ্রহণ হবে। এদিকে আকাশে মেঘ-বৃষ্টি ও দমকা বাতাসে বিষখালী নদীর তীরবর্তী উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগী উপজেলার মানুষ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার হোসনাবাদ, বদনীখালী, কালিকাবাড়িসহ নিম্নঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। 

গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে দমকা বাতাস বইছে। প্রকৃতি অন্ধকার রূপ ধারণ করেছে। রাত থেকে পুরো এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। সব মিলিয়ে আতঙ্কে রয়েছে উপকূলীয় এ উপজেলার মানুষ। বেতাগী পৌর শহরসহ উপজেলার ইউনিয়নগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার ঝোপখালী, মোকামিয়া, বদনীখালী, হোসনাবাদ, কালিকাবাড়ি গ্রামের বিষখালী নদীর তীরবর্তী ৬টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে ২৩টি গ্রামে পানি হু হু করে প্রবেশ করছে। 

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পঞ্জিকা অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে পূর্ণিমা শুরু হয়ে আজ বুধবার বিকেল ৫টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। এটি বুদ্ধপূর্ণিমা নামে পরিচিত। পূর্ণিমা তিথিতে চাঁদের আকর্ষণে পৃথিবীতে পানি বেড়ে যায়। বেতাগী উপজেলার পশ্চিম দিকে বিষখালী নদী এবং পূর্ব দিকে পায়রা নদী। মাঝ বরাবর বেতাগী উপজেলা অবস্থিত। নেই কোনো শহররক্ষা বাঁধ।

নদী সংলগ্ন এ উপজেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বেতাগী পৌরসভা ও কয়েকটি ইউনিয়নের জন্য  ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষার জন্য কোনো টেকসই  রক্ষা বাঁধ নেই। দীর্ঘদিন ধরে এ উপকূলীয় জনপদের মানুষ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। 

এদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস' ক্রমাগত শক্তি বৃদ্ধি করে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়েছে দমকা বাতাস ও থেমে থেমে বৃষ্টি। এরই মধ্যে পায়রা এবং মোংলা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর দূরবর্তী বিপৎসংকেত জারি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এ অঞ্চলের অবস্থান পায়রা এবং মোংলা সমুদ্রবন্দরের মধ্যখানে হওয়ায় এখানকার মানুষের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসকে ঘিরে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে বিষখালী নদীর কোলঘেঁষা মানুষরা রয়েছে চরম আতঙ্কে।

আজ বুধবারের ভরা পূর্ণিমা ও ইয়াসের প্রকোপে বিষখালী নদীর জোয়ার আরো বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।  উপকূলীয় অঞ্চলের নড়বড়ে বেড়িবাঁধে নদীর উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে। 

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাস থেকে বেতাগী পৌরশহরকে রক্ষার জন্য ২০০১ সালে বিষখালী নদীতে ব্লক ফেলা হলেও এরপর তেমন কোনো কাজ হয়নি। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সুপার সাইক্লোন সিডর ও ২০১১ সালের ২৫ মে আইলায় ভেঙে যাওয়া শহররক্ষা বাঁধ স্থায়ীভাবে রক্ষার জন্য ২০১১ সালে পুনরায় উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুধু ব্লক তৈরি করে বাঁশ, বালি ও বস্তার চট রেখে লাপাত্তা হয়ে যায়। 

গত ২০১৭ সালের ২০ মে বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙন থেকে বেতাগী উপজেলাকে রক্ষা করতে বেতাগী পৌর শহর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তৎকালীন স্থানীয় সরকার বিভাগের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেক একটি প্রকল্প অনুমোদন করে এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। একটানা তিন বছর অতিক্রম হলেও প্রকল্পটি এখন শুধু কাগজে-কলমে দেখা যায়। বাস্তবে কোনো কাজ পরিলক্ষিত হয়নি।



সাতদিনের সেরা